বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজশাহী থেকে ভ্রমণে আসা স্কুলশিক্ষক কামাল আহমেদ জানান, সকালে বাস থেকে নেমে ৩০টির বেশি হোটেলে কক্ষ ভাড়া চেয়েছেন। বলা হয়েছে খালি নেই। তবে দালালের মাধ্যমে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায়। তাতে ভাড়া চার-পাঁচগুণ বেশি। যেমন এক হাজার টাকার কক্ষের ভাড়া চাওয়া হচ্ছে পাঁচ হাজার টাকা। এত টাকায় রাতযাপনের সামর্থ্য তাঁর নেই।

default-image

ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) তথ্য, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সৈকতে নেমেছে দুই লাখের বেশি পর্যটক। কিছু পর্যটক সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ, ইনানী, হিমছড়ি, চকরিয়ার সাফারি পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ভ্রমণে গেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাতযাপনের ব্যবস্থা করতে পারেননি। আনন্দের ভ্রমণে এসে অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এখন থেকে কেউ ভ্রমণে আসার আগে হোটেলের কক্ষ অগ্রিম বুক করে আসা উচিত।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত অন্তত ৫০ হাজার পর্যটকে ঠাসা। পাশের সিগাল, লাবণী ও কলাতলী সৈকতে আরও ৫০ হাজারের বেশি পর্যটক আছেন। এ সময় দেখা যায়, সুগন্ধায় সবাই পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্যের সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় হিমশিম খাচ্ছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফ গার্ডের কর্মীরা।

এই সুযোগে দালালদের রমরমা ব্যবসা চলছে। তাঁরা এক হাজার টাকার কক্ষ সাত হাজার টাকা নিয়ে ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। যাঁদের সামর্থ্য নেই, তাঁরা রাত কাটানো নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সি-সেফ লাইফ গার্ডের ব্যবস্থাপক সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, গত চার দিনে সৈকতে নেমেছেন ছয় লাখের বেশি পর্যটক। ৯০ শতাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখা হচ্ছে না।

default-image

কক্সবাজারের সাতটি পৃথক হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সংগঠনের সমন্বিত মোর্চা ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর আবহে তিন দিনের সরকারি ছুটিতে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের বাড়িতে ফেরা শুরু হয়েছে শনিবার রাত থেকে। এতে করে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়ও কমতে থাকবে। তবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক ৭০-৮০ হাজার পর্যটকের উপস্থিতি থাকবেই। সৈকত এলাকার নিবন্ধিত ৪২৬টি হোটেল–মোটেল–গেস্টহাউসের ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুক করা আছে। হোটেল-মোটেলগুলোতে দৈনিক ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের রাতযাপনের ব্যবস্থা আছে।

অতিরিক্ত কক্ষভাড়া আদায় প্রসঙ্গে আবুল কাশেম সিকদার বলেন, সৈকত এলাকায় অনিবন্ধিত ৪০টির বেশি ফ্ল্যাটবাড়িতে আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউস আছে। এসব ফ্ল্যাটে ১ হাজার টাকার একটি কক্ষের ভাড়া ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আসছে। কিন্তু সমিতির সদস্য না হওয়ায় এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। নিবন্ধিত ৪২৬টি হোটেল–গেস্টহাউসে কক্ষভাড়া নির্দিষ্ট করা আছে। মূল্যতালিকা কার্যালয়ে টানানো থাকে। খাবারের হোটেলেও তালিকা টেবিলের ওপরে থাকে। অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলে ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্যকেন্দ্রে অভিযোগ করতে পারেন পর্যটকেরা। এতে ফল পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, হোটেলে অতিরিক্ত কক্ষভাড়া ও খাবারের বিপরীতে অতিরিক্ত টাকা আদায় যেন না হয়, তা দেখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০টির বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছেন। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন