default-image

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের থানায় আটকে রেখে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধা খোদেজা খাতুন (৭০)। তিনি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, খোদেজা খাতুনের মালিকানাধীন বিরোধপূর্ণ জমিটি দখল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে খোদেজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুক্তাগাছা থানায় এনে আটকে রাখা হয়। আটকে রাখার সময় মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বিরোধপূর্ণ জমিটি প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তাতে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা মামলা করে তাঁদের আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

খোদেজা খাতুনের মালিকানাধীন বিরোধপূর্ণ জমিটি দখল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে খোদেজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুক্তাগাছা থানায় এনে আটকে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কুতুবপুরে খোদেজা খাতুনের ১৭ শতক জমির মধ্যে সোয়া ৬ শতক জমি ভুয়া দলিল করে একই গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানিক মিয়াকে দেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। কিন্তু প্রচার করা হয়, খোদেজার খাতুনের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক এ জমি লিখে দিয়েছেন। এরপর প্রথমে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এবং পরে মুক্তাগাছা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জমিটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিতে শুরু করেন। গত নভেম্বরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা খোদেজার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন। এরপর খোদেজা খাতুন জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত জমিটির ওপর কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ করতে নিষেধ করেন। এরপর গত ৩১ ডিসেম্বর মুক্তাগাছা থানার পুলিশ বাড়িতে গিয়ে খোদেজা, তাঁর ছেলে রাজ্জাক, আবু বকর সিদ্দিক ও পুত্রবধূ রাজিয়া সুলতানাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। থানায় রেখে জমিটি মানিককে বুঝিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করে পুলিশ। তাতে রাজি না হলেও পরদিন চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সম্প্রতি তাঁরা জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি গিয়ে দেখেন, জমিটিতে মানিক মিয়ার পক্ষ থেকে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

সংবাদ সম্মেলনে খোদেজা বলেন, জোর করে জমিটি দখল করে নেওয়ায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানিক জমিটি নিজের জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে কেনেন। কিন্তু খোদেজার পরিবার মানিককে জমিটির দখল দিচ্ছিলেন না। জমির মালিকানা দাবি করায় খোদেজার সন্তানেরা মানিককে মারধর করেন। ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় জমির ব্যাপারে কোনো প্রকার চাপ দেওয়া হয়নি।

মন্তব্য করুন