বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তরুণীর মা একজন ইউপি সদস্য। তাঁর মেয়ে নার্সিং বিষয়ে পড়ছেন। তাঁর মেয়ের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদহে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে কর্মরত পুলিশের নায়েক আবদুল করিম চাকরির প্রলোভন দিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সূত্র ধরে আবদুল করিম গত ২৬ মার্চ তাঁকে পুলিশ একাডেমিতে নিয়ে যান এবং তাঁর শোবার ঘরে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এরপর বিয়ের কথা বলে তাঁকে দুই দিন বন্ধুর বাড়িতে রাখেন। গত ১১ এপ্রিল রাতে বিয়ে না করে তরুণীকে তাঁর বাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তরুণী একা বাড়িতে যেতে আপত্তি করলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আবদুল করিম নিজের মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান।

তরুণীর অভিযোগ, পরের দিনই তাঁর মা চারঘাট থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি অভিযোগ করেন। কিন্তু ওসি মামলা না নিয়ে নানা কথা বলে শুধু সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। তরুণীর মা অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে তাঁদের মুখ বন্ধ করার জন্য এবং মোটরসাইকেলটি তাঁদের বাড়ি থেকে উদ্ধারের জন্য মাস্তান লেলিয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় তাঁর মেয়ে সম্পর্কে নানা কুৎসা রটানো হয়। দুটি অনলাইন পত্রিকায় তাঁর মেয়ের চরিত্র হনন করে মিথ্যা খবর পরিবেশন করা হয়। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চারঘাট থানার ওসির কাছে তিনি পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

ইউপি সদস্য এই মা অভিযোগ করেন, গত ৬ মে চারঘাট থানার ওসি তাঁকে বিষয়টি আপস করে দেওয়ার জন্য থানায় একটি সালিস ডাকেন। তরুণীর মা বলেন, ওসির কার্যালয়ে আবদুল করিম, তাঁর স্ত্রী ও তাঁকে (মা) নিয়ে ওসি মীমাংসায় বসেন। তিনি আবদুল করিমের কাছ থেকে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা নেন। এর মধ্যে আড়াই লাখ টাকা তাঁদের দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে মেয়ের সই নেওয়ার জন্য মেয়েকে ভেতরে ডাকা হয়। মেয়ে এসে সালিসনামা পড়ে দেখতে চাইলে ওসি তাঁকে অপমান করতে শুরু করেন। তখন তিনি মেয়েকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন। এরপর ওসি তাঁকে গালাগাল ও অপমান করতে থাকেন। এ সময় থানার ভেতরেই মেয়ে বিষ পান করেন।

পরে দুজন পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ৮ মে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ ও রাজশাহী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। কিন্তু সাড়া না পেয়ে আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে করোনার বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার কারণে আদালতেও মামলা করতে পারেননি।

অভিযুক্ত আবদুল করিম স্বীকার করেন, চারঘাট থানায় মীমাংসার জন্য বসা হয়েছিল। মীমাংসার সময় মেয়েরই দোষ প্রমাণিত হচ্ছে দেখে অপরাধ ঢাকার জন্য তিনি থানার ভেতরেই বিষ পান করেছিলেন। তিনি মেয়েটির বাড়িতে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সদস্য আবদুল করিম ও ওই তরুণী—দুজনই বিবাহিত। দুজনের সম্পর্ক ছিল। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করতেন। একদিন রাতে লোকজন ধাওয়া দিলে আবদুল করিম নাকি মেয়েটির বাড়িতে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়েছিলেন। এই মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য দুই পক্ষের পিড়াপীড়িতে চারঘাট থানার ওসি আপস–মীমাংসায় বসেছিলেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মেয়ের মা দুই লাখ টাকা আগে নিয়ে পরে মোটরসাইকেল দিতে চান। এতে সালিস ভেস্তে যায়। তখন মেয়েটি থানার বাইরে গিয়ে কী যেন একটা পান করেন। বোতল দেখে চিকিৎসক বলেছেন, এটা একটা ওষুধ। পুলিশ সদর দপ্তরে দেওয়া তাঁদের অভিযোগটি পিবিআই এখন তদন্ত করছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন