বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিজেএমসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলোর শ্রমিকদের প্রাপ্য বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে ওই মিছিল হয়। মিছিল শেষে পিপলস গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কারখানা কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেন। সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সদস্যসচিব এস এ রশীদ, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী, দৌলতপুর জুট মিল কারখানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মোফাজ্জেল হোসেন, যশোর-খুলনা আঞ্চলিক বদলি কমিটির আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস হোসেন, সদস্যসচিব আবদুর রাজ্জাক তালুকদার, শ্রমিকনেতা মো. নূরুল ইসলাম, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ প্রমুখ।

দীর্ঘ ১৭ মাস মজুরি না পেয়ে শ্রমিকদের পেটে ভাত নেই। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহামারি করোনার কারণে ২০২০ সালের ৩০ জুন পাটকল বন্ধের পর থেকে পাটকলশ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কর্মহীন শ্রমিকেরা আজ দারুণভাবে অবহেলিত। দীর্ঘ ১৭ মাস মজুরি না পেয়ে শ্রমিকদের পেটে ভাত নেই। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। ক্ষুধার যন্ত্রণায় বহু শ্রমিক অনৈতিক পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এমতাবস্থায় ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে। শ্রমিক-কৃষকেরা যাতে ধুঁকে ধুঁকে মরেন, সেই ব্যবস্থা করছে সরকার। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করার দাবি জানান বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সরকার লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের পেটে লাথি মেরে রাতের অন্ধকারে ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে। পাট খাতে লোকসান করে সরকার। আর চুরি-দুর্নীতি-লুটপাট করেন আমলা-মন্ত্রীরা। অথচ যে পাটকলশ্রমিকেরা ৫০ বছরে লাভ তৈরি করেছেন, রাষ্ট্রের অর্থনীতি সচল রেখেছেন, সেই শ্রমিকেরা আজ বেতন পাচ্ছেন না। অথচ নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন লুটপাটকারী আমলা-মন্ত্রী-বিজেএমসির কর্মকর্তারা। বক্তারা চাকরিহারা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন, বকেয়া ছয়টি বিলসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন