বিজ্ঞাপন

ইয়াস গতকাল বুধবার দুপুরে উপকূলে আঘাত হেনে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হলেও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া বিভাগ। একইভাবে বড় লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও ৬৫ ফুটের নিচের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, অধিক উচ্চতার জোয়ারের এই তাণ্ডব আরও দুদিন চলবে। শনিবারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

default-image

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ উপকূলে প্রবল দমকা পুবালি বাতাস আর থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। সেই সঙ্গে নদীর তীব্র জোয়ারে ভাসে ঘরদোর, জনপদ। এরই মধ্যে জোয়ারে বিভাগের ছয় জেলায় ভেসে গেছে ২ হাজার ৮৬১ হেক্টর আয়তনের ১৭ হাজার ২০৯টি ঘের ও পুকুরের ২ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন মাছ, আর অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ। মৎস্য খাতে মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

পাউবো সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার পিরোজপুরের কচা নদীর জোয়ার বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার, বিষখালী নদীর ঝালকাঠির পয়েন্টে জোয়ারের পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার, বিষখালীর বরগুনা অংশে বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ও মেঘনার দৌলতখান পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার, তেঁতুলিয়া নদীর টঙ্গীবাড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১১ সেন্টিমিটার, স্বরূপকাঠি নদীতে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং ধর্মগঞ্জ নদীর হিজলা পয়েন্টে জোয়ারের পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

default-image

বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করলেও বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যে এখনো সাগর বেশ উত্তাল। সে কারণে ৩ নম্বর সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। এ জন্য থেমে থেমে কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও হতে পারে। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও নদ-নদীর জোয়ারের উচ্চতাও কমবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন