খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানিনিষ্কাশন ও নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে ব্রিটিশ শাসনামলে শহর খাল খনন করা হয়। একসময় খালের পানিতে সব বয়সী মানুষের গোসলসহ নারীরা গৃহস্থালির কাজ করত‌েন। খালে ছোট-বড় অনেক নৌকাও চলাচল করত। কিন্তু দেড় যুগের বেশি সময় ধরে দখল ও দূষণের কারণে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঐতিহ্যবাহী খালটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের জগতবাজার থেকে গোকর্ণঘাট পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য ৪.৮০ কিলোমিটার। খালের প্রস্থ একেক জায়গায় একেক রকম। তবে গড় প্রস্থ ৯০ ফুট ও গভীরতা ২০-৩০ ফুট। ময়লা–আবর্জনার কারণে খালের গভীরতা কমেছে। বিশেষ করে কাজীপাড়া এলাকায় গভীরতা ৬-৭ ফুটের বেশি হবে না‌। খালটি শহরের পূর্ব দিকে টানবাজার ও পশ্চিম দিকে গোকর্ণঘাট দুই দিক দিয়ে তিতাস নদীতে গিয়ে মিশেছে।

জেলা শহরের আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন বাজার, হোটেল, রেস্তোরাঁর ময়লা–আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলা হয়। বিভিন্ন এলাকার পয়োনিষ্কাশনের নালার সংযোগ সরাসরি খালে। স্থানীয় ব্যক্তিদের অসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় খালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে খালটি।

জেলা পরিষদ ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের দিকে খালের দুর্দশা শুরু হয়। তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে জগতবাজার থেকে শহরের কাজীপাড়া এলাকা পর্যন্ত খালের দুই পাড়ে সিসি ব্লক স্থাপন করে। এতে খালের প্রশস্ততা কমে নাব্যতা–সংকট দেখা দেয়। এ ছাড়া ব্লক বসানোর ফলে খালটি পুনঃখননেও জটিলতা দেখা দেয়। তারপর থেকে খালটি এলাকার বাসিন্দাদের ডাস্টবিন ও ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

নদী নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নোঙর’-এর সভাপতি মো. শামীম আহমেদ বলেন, শহর খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছেন তাঁরা। অবশেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ খননকাজ শুরু করেছে। এরপর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, খালটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। জেলা প্রশাসন পরিষ্কারের পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযান চালাবে। সে জন্য পুলিশ প্রশাসন এ কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, শহর খালটির অস্তিত্ব ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংবাদকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সভা করেছেন তিনি। নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খাল পরিদর্শন করে উচ্চ আদালতের নির্দেশে দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে‌। জরিপের কাজ প্রায় শেষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।