default-image

অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঢাকার দোহার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তাবির হোসেন খান ওরফে পাভেলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত আসামি বা কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন মর্মে তথ্য দিয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় লাভ করেন।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান তাবির হোসেন খানের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট নবাবগঞ্জের আলগীরচরের টিম নেটওয়ার্ক নামের ডিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক মুনসুর আলী মামলা করেন। তাবির হোসেনসহ ১১ জনকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানায় ওই মামলা করা হয়। পরে ২০০৯ সালের ১৩ অক্টোবর তাবির হোসেনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হক।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ২০০১ সালের ৭ মার্চ রাতে তাবির হোসেন তাঁর বাহিনী নিয়ে নবাবগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালালউদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে গুলি করেন। এ ঘটনায় জালাল বাদী হয়ে তাবির হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দুইটার দিকে র‍্যাব-১১–এর ডিএডি খন্দকার আসলামের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন বাপ্পি সরণির নলুয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শুটারগানসহ দুটি কার্তুজ তাবির হোসেনের কাছ থেকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ওই দিনই তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় খন্দকার আসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ২০১৪ সালের ১০ মার্চ এ মামলায় তাবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এ মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ তাবির হোসেনকে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় ১০ বছরের এবং ১৯–এর ১ ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।

এদিকে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী (বর্তমানে নির্বাচিত) তাবির হোসেন হলফনামার ফরম পূরণে ২(ক) ও ২(খ) অনুচ্ছেদের ফৌজদারি মামলাসংক্রান্ত ঘরে তিনি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত নন মর্মে তথ্য দেন। অথচ তাবির হোসেনকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক জালালউদ্দিন বলেন, ‘২০০১ সালের ৭ মার্চ রাতে তাবির হোসেন তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নবাবগঞ্জের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমার ওপর হামলা চালান। আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুলি করেন। এ ঘটনায় আমি তাবির ও তাঁর বাহিনীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার একাধিক বাসিন্দা জানান, হলফনামায় তথ্য গোপন করে তাবির অপরাধ করেছেন। এ অপকর্মের জন্য তাঁর শাস্তি হওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছিল। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে র‍্যাব আমাকে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। এর দেড় মাস পর আমি নারায়ণগঞ্জের নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়ে আসি। পরে উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আপিল করি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে দু–তিনটি শুনানি বাকি রয়েছে। নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার পর নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়েছি। নির্বাচন কর্মকর্তারা যাচাই–বাছাই করে আমার প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এখন একটি কুচক্রী মহল আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আমি মিথ্যার আশ্রয় নিইনি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, কোনো মামলার আসামির বিরুদ্ধে যদি নিম্ন আদালতে সাজা হয়, কিন্তু সে আসামি যদি উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আপিল করেন আর মামলা চলমান থাকে, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন ও প্রার্থীর নির্বাচনী মামলাসংক্রান্ত তথ্য হলফনামায় না উল্লেখ করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, এতে সমস্যা হবে না। তবে নির্বাচনের পরে সেই চলমান মামলায় যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে প্রার্থীর পদটি শূন্য হয়ে যাবে।

মন্তব্য পড়ুন 0