পঞ্চগড়ে পর্যটনের ক্ষেত্র তুলে ধরতে এখন সমতলের চা–বাগানের প্রচার চলে। বাগান ও আশপাশের জনজীবনও আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। সম্প্রতি সদর উপজেলার একটি চা–বাগানে।
পঞ্চগড়ে পর্যটনের ক্ষেত্র তুলে ধরতে এখন সমতলের চা–বাগানের প্রচার চলে। বাগান ও আশপাশের জনজীবনও আকৃষ্ট করে পর্যটকদের। সম্প্রতি সদর উপজেলার একটি চা–বাগানে। ছবি: প্রথম আলো

শূন্যের ভেতর একটি কুঁড়িতে দুটি চায়ের পাতা। পেছনে পড়ন্ত বিকেলের রোদ পড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা। পঞ্চগড়ের পর্যটনকে ব্র্যান্ডিং করতে জেলা প্রশাসনের তৈরি লোগো এমন। বাংলাবান্ধার জিরো পয়েন্ট, সমতলে চা চাষ আর কাঞ্চনজঙ্ঘা দিয়েই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এই ব্যবস্থা। স্লোগানেও আছে এর প্রতিফলন—‘উত্তরের প্রবেশদ্বার সবুজ চায়ের সমাহার’।

চলতি শীত মৌসুমেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেশের সর্ব উত্তরের এই জেলায় ভিড় করেছিলেন পর্যটকেরা। ফলে জেলার পর্যটনশিল্পের প্রচার ও প্রসারের জন্য নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে প্রশাসন। এর শুরুতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দেশের সর্ব উত্তরের এই জেলাকে পরিকল্পিত পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও দীর্ঘদিনের। পঞ্চগড় জেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে একটি ‘বঙ্গবন্ধু হিমালয় ওয়াচ টাওয়ার অ্যান্ড কমপ্লেক্স’ নির্মাণের দাবি তুলেছে পঞ্চগড় পর্যটন উন্নয়ন পরিষদ। আছে আবাসনসংকটও।

বিজ্ঞাপন

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আলীম খান বলেছেন, একটি জেলায় পর্যটকদের আসার জন্য অবশ্যই উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন, খাবার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকতে হবে। এর মধ্যে জেলায় কিছুটা আবাসনসংকটও আছে। এসবের সমাধানের জন্য আপাতত জেলা পরিষদের আওতায় বাংলাবান্ধায় দৃষ্টিনন্দন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কয়ার’ নির্মাণ করা হচ্ছে। টুইন টাওয়ার কিংবা লন্ডন ব্রিজের আদলে স্থাপনাটির মহাসড়কের দুই পাশে থাকবে পাঁচতলার দুটি ভবন। ভবন দুটি যুক্ত হবে একটি সেতুর মাধ্যমে। সম্পূর্ণ স্থাপনা হবে স্টিলের কাঠামোর। সেখানে থাকবে জাদুঘর, আবাসিক সুবিধা, ওয়াচ টাওয়ার, কফি কর্নারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয়।

এ ছাড়া জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে বার আউলিয়ার মাজারেও আধুনিক স্থাপনা তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী।

এদিকে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২০ সালের ৬ জুলাই থেকে ট্যুরিস্ট পুলিশ জোন চালু করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার পর্যটক এখানে আসেন। সরকারি-বেসরকারি আবাসনের সংকট থাকায় কমিউনিটি ট্যুরিজমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বর থেকে স্বল্প পরিসরে এটি শুরু হয়। পর্যটকেরা ঘরোয়া পরিবেশে স্থানীয়দের বাড়িতে অবস্থান করতে পারবেন। এতে স্থানীয়রাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের বাংলা হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিক মো. আজিজুল বলেন, সারা দিন নানা পদের তরকারি আর ভাত বিক্রি করেন তিনি। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তাঁর হোটেলের বিক্রি বেড়েছিল প্রায় চার গুণ। এই দুই মাসে প্রতিদিন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

দর্শনীয় স্থান

চা-বাগান, বাংলাবান্ধা জিরোপয়েন্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন ছাড়াও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোসংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে মহানন্দা নদী। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলো এলাকায় বসে প্রকৃতিপ্রেমীদের আড্ডা। এ ছাড়া পর্যটকদের আকৃষ্ট করে মোগল স্থাপত্যের মির্জাপুর শাহি মসজিদ, বার আউলিয়ার মাজার, বোদেশ্বরী মন্দির, ১ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো সুবিশাল মহারাজার দিঘি, ভিতরগড় দুর্গনগরী। মহানন্দা নদী থেকে হাজারো শ্রমিকের নুড়িপাথর তোলার দৃশ্যও মন ভোলায় পর্যটকদের।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন