কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, গত বুধবার তিনি গ্রামের পাশে ভেদারপুড়ি হাওরে যান জমির ধান কাটার জন্য। সঙ্গে নিজের কয়েকটি গরু নিয়ে গিয়েছিলেন ঘাস খাওয়াতে। ধান কাটার সময় তিনি দেখতে পান হাওরের মাঝখানে একটি মহিষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু আশপাশে যত দূর চোখ যায় কাউকে দেখতে পাননি। তখন সন্তর্পণে এগিয়ে গিয়ে অনেক চেষ্টার পর মহিষটি ধরতে পারেন তিনি। মহিষটি বাড়িতে এনে বেঁধে রাখেন। কিন্তু পরদিন দেখতে পান মহিষটি দড়ি ছিঁড়ে পালিয়েছে। তিনি আবার সেই হাওরে ধান কাটতে গিয়ে দেখতে পান মহিষটি আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন ওই গ্রামের আবদুর রশিদ ও শামছু মিয়া নামে দুই ব্যক্তি মহিষটি ধরার চেষ্টা করে আহত হন। কিন্তু শহীদ মিয়া দ্বিতীয়বারও মহিষটি ধরে ফেলেন।

এর পর থেকে মহিষটি শান্ত আচরণ করছে। প্রাণীটি এখন শহীদ মিয়ার বাড়িতে আছে। তিনি প্রাণীটিকে তিন বেলা খাওয়াচ্ছেন। চুরির আশঙ্কায় রাতে পাহারা দিচ্ছেন। গ্রামের এক ব্যক্তি মালিকের সন্ধান পাওয়ার জন্য মহিষের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। গতকাল শনিবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলা থেকে দুই ব্যক্তি এসে মালিক পরিচয়ে মহিষটি ফেরত চান। কিন্তু তাঁরা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। শহীদ আরও বলেন, মহিষ ধরার বিষয়টি তিনি এলাকার চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন।

খেপে গিয়ে বিপত্তি বাধানোর আশঙ্কায় পাঁচ দিন ধরে মহিষটিকে বিপুল পরিমাণ খাবার খাওয়াচ্ছেন শহীদ মিয়া। খাবারের জোগান দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। গ্রামের কয়েক বাসিন্দা বলেন, মহিষটির বাজারমূল্য লাখ টাকার বেশি হতে পারে।

রাজগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার মমতাজ খোকন বলেন, অনেকেই মালিক সেজে মহিষটি নিতে এসেছেন। তবে কেউ মালিকানার প্রমাণ দিতে পারেননি। তাঁদের বলা হয়েছে প্রমাণ নিয়ে আসার জন্য।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন