বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক ছাড়া ভোটের সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আনিসুল হক। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

একাধিক প্রার্থী ও নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকা প্রতীক না থাকলেও দলীয় সমর্থন দেওয়ার কাজটা শুরু করে উপজেলা যুবলীগ। তাদের সমর্থন জানানো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে উপজেলা ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ। প্রথমে তাঁরা উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউপির চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিনকে সমর্থন দেন। আখাউড়া উত্তর ইউপিতে ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশের নামে এক সভায় মো. শাহজাহানকে সমর্থন জানানো হয়। মোগড়া ইউপির উমেদপুরে একটি সংগঠন করার আয়োজনে এম এ মতিন ও মনিয়ন্দ ইউপিতে মো. লুৎফুর রহমানকে সমর্থন দেয় উপজেলা যুবলীগ।

ধরখার ইউপিতে ১৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তবে প্রকাশ্যে কারও নাম বা কোনো প্রার্থীর সভায় যোগ না দিলেও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা নীরবে গোলাম সামদানী ফেরদৌস নামের এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ।

এদিকে আখাউড়া উত্তর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হান্নান ভূঁইয়া আবারও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। নিজের প্রচারণার পোস্টারে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান ব্যবহার করেছেন। এতে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত দুইবারের সফল চেয়ারম্যান’ও লেখা হয়। এ ঘটনায় ১৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পোস্টারে দলীয় নাম ব্যবহার করায় হান্নান ভূঁইয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এর আগে আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের আজমপুরে পুলিশের ‘একই মঞ্চে সব প্রার্থী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার তাঁর আলোচনায় নাম উল্লেখ না করে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টারে দলের নাম ব্যবহারের অভিযোগ আনেন।

মোগড়া ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এখানে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে। অনেকেই দলকে বিতর্কিত করতে অনেককে সমর্থন দিচ্ছেন।

আখাউড়া উত্তরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হান্নান ভূঁইয়া বলেন, আইনমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে এখানে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে। তবে যুবলীগের এক নেতা একজনকে সমর্থন দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিচলিত না। উপজেলা আওয়ামী লীগ এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও মন্ত্রী মহোদয়কে দেখিয়েছে। এখানে সুন্দর ভোট হবে এবং বহিরাগতদের কাউকে প্রবেশ করতে দেবে না বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবদুল মমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আখাউড়া উত্তর, দক্ষিণ, মোগড়া ও মনিয়ন্দ ইউপিতে যুবলীগ চারজনকে সমর্থন দিয়েছে। আমরা যুবলীগ করি। যে চারজনকে সমর্থন দিয়েছি, তাঁরাও যুবলীগের নেতা–কর্মী ও সদস্য। তাই তাঁদের সমর্থন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ভোটে নৌকা প্রতীক না থাকায় আওয়ামী লীগ কাউকে দলীয় সমর্থন দেয়নি। যুবলীগ কিংবা ছাত্রলীগের বিষয়টি তাঁদের জানা নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন