গোয়ালন্দে উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি প্রতিহত করতে 
এগোচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা–কর্মী। পুলিশ সংঘাত এড়াতে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আজ বুধবার গোয়ালন্দে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে
গোয়ালন্দে উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি প্রতিহত করতে এগোচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা–কর্মী। পুলিশ সংঘাত এড়াতে তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আজ বুধবার গোয়ালন্দে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কেপ্রথম আলো

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এক পক্ষ আজ বুধবার দলীয় মনোনীত প্রার্থীর প্রতীক বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। অন্য পক্ষ তা প্রতিহত করতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও এক ঘণ্টা অবরোধ করেছে। এ কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির উত্তেজনায় উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি মানববন্ধন প্রতিহত কর্মসূচি পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালন্দ বাজার আড়তপট্টি এলাকায় এই হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ১০ অক্টোবর চেয়ারম্যান পদে ওই উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। সরকারদলীয় প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা মুন্সী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মণ্ডল (ঘোড়া) এবং বিএনপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব আলম শাহীন (ধানের শীষ) মাঠে ছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম মণ্ডল মারা যান। এ কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। নতুন করে তফসিল ঘোষণা করতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

প্রয়াত নুরুল ইসলাম মণ্ডল রাজবাড়ী-১ আসনের সাংসদ সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আর নৌকার প্রার্থী মোস্তফা মুন্সী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নুরুল ইসলাম মণ্ডল মারা যাওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা সাংসদের কাছে তাঁদের বলয় থেকে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে প্রার্থী করার দাবি জানান। শুধু তা–ই নয়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরীকে নৌকা প্রতীকের দলীয় প্রার্থী করার দাবি জানান তাঁরা। বর্তমান উত্তেজনা মূলত এ বিষয় নিয়েই।

default-image

আজ বেলা ১১টায় সাংসদের অনুসারীরা সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মোস্তফা মুন্সীর দলীয় মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীক বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করে। উপজেলা পরিষদ–সংলগ্ন পৌর মেয়র শেখ নিজামের বাসভবনের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এই মানববন্ধনে দলীয় নেতা-কর্মীসহ কয়েক শ লোক অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ চৌধুরী। এ সময় আসাদ চৌধুরী ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন।

নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কর্মসূচি প্রতিহত করতে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী সকাল ১০টা থেকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। বেলা ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি প্রতিহত করতে মহাসড়ক দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা উজানচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ শরীফুজ্জামানের নেতৃত্বে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান করে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নেতা-কর্মীরা অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাঁদের আটকে রাখে। নেতা-কর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েই সাংসদ কাজী কেরামত আলী, পৌরসভার মেয়র শেখ নিজাম ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান মিয়া। দুপুর ১২টার পর নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক থেকে সরে আবার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিজ্ঞাপন

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ শরীফুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ বাধা সৃষ্টি না করলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।’

ফরিদপুর নেওয়ার আগমুহূর্তে আহত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নয়ন ও সুজন নামের দুই যুবক প্রথমে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে মারপিট শুরু করেন। এ সময় উপজেলা যুবলীগের একাংশের কয়েকজন নেতা-কর্মী দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের ইন্ধনেই এ হামলা হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন।

বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অবস্থানকালে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. নুরুজ্জামান মিয়া, সহসভাপতি ও নৌকার প্রার্থী মোস্তফা মুন্সী, সহসভাপতি গোলজার হোসেন মৃধা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম মণ্ডল, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করায় সাংসদসহ পৌর মেয়র শেখ নিজাম ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেন।

default-image

আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলা

এদিকে নৌকার প্রার্থী মোস্তফা মুন্সীর পক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে বেলা দেড়টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (৫০)। সাবেক এই ইউপি সদস্য গোয়ালন্দ বাজার আড়তপট্টি পার হয়ে মাল্লাপট্টি ব্রিজের কাছে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ফরিদপুর নেওয়ার আগমুহূর্তে আহত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নয়ন ও সুজন নামের দুই যুবক প্রথমে তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে মারপিট শুরু করেন। এ সময় উপজেলা যুবলীগের একাংশের কয়েকজন নেতা-কর্মী দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের ইন্ধনেই এ হামলা হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি পালন করে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ তাঁর ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমরা প্রতিবাদে বিকেলে ফের বিক্ষোভ মিছিল করেছি। তিনি সুস্থ হয়ে এলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল-তায়াবীর বলেন, হামলাকারী যে–ই হোক, তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধীকে ধরতে ইতিমধ্যে পুলিশ মাঠে নেমেছে।

মন্তব্য করুন