বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় নেতারা বলছেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আলোচনায় আসেন সাংসদ আবদুর রহমান। কখনো মানব পাচার, কখনো ইয়াবার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক তালিকায় তাঁর নাম ছিল ওপরের দিকে। সাংসদ হওয়ার দেড় মাসের মাথায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে (ব্যাংকার) পিটিয়ে আলোচনায় আসেন আবদুর রহমান। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাঁর মারধরের শিকার হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, দলীয় নেতা-কর্মী, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী। এসব ঘটনা ঘটলেও কোনোটির ক্ষেত্রে মামলা হয়নি। তবে এসব কারণে সারা দেশে আলোচিত ও সমালোচিত হন আবদুর রহমান।

আবদুর রহমানের মারধরের শিকার একজন শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী ও ব্যবসায়ী বলেন, আবদুর রহমান ক্ষমতাধর ব্যক্তি হওয়ায় তাঁরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাননি। তবে এতগুলো ঘটনা ঘটার পরও দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির দেখা যায়নি। তাঁরা বলছেন, ঘটনার পর এলাকায় বের হলে লোকজন শুধু কী কারণে মারধর করা হয়েছিল জানতে চাইতেন। আর সে সময় তড়িঘড়ি করে লোকজন থেকে আলাদা হওয়ার চেষ্টা করতেন। মারধরের কথা মনে পড়লে এখনো তাঁদের চোখে জল আসে।

গত শুক্রবার দলীয় সভায় মারধরের শিকার পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউছুফ মনো বলেন, তিনি চিকিৎসা শেষে আজ সকালে টেকনাফে ফিরেছেন। তবে চিকিৎসক তাঁকে বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। অন্যজন যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ ইউছুফ ভুট্টো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। তিনি বলেন, আবদুর রহমানের মারধরের ঘটনায় মামলা করা না হলেও জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বলেন, ‘মোহাম্মদ ইউছুফ মনো আমার মামাতো ভাই। আর মোহাম্মদ ইউছুফ ভুট্টো ভগ্নিপতি। ওই দিনের ঘটনাটি ছিল পারিবারিক। সেটি আমরা পারিবারিকভাবে মীমাংসা করব।’

তবে মোহাম্মদ ইউছুফ মনো বলছেন, রাজনৈতিক দলের সভাস্থলে বাগ্‌বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও লাথালাথির ঘটনা কোনোভাবেই পারিবারিক হতে পারে না।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, শুক্রবার টেকনাফ পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দুজন নেতাকে আবদুর রহমানের নেতৃত্বে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, সেটি দলের জন্য অশনিসংকেত। আগামী উপজেলা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে নেতা–কর্মীদের মধ্যে একধরনের অনাগ্রহ সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

নুরুল বশর আরও বলেন, দলীয় নেতাদের মারধরের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাবেক সাংসদ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন