default-image

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সাংসদের ফুফাতো ভাই হাসিনুর রহমান খুনের সঙ্গে দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা মোশতাক প্রকৃতির মানুষ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজিত শোকসভায় বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

বক্তাদের দাবি, দলের মধ্যে খন্দকার মোশতাক প্রকৃতির লোকজন ভিড়ে গেছেন। তাঁরাই হাসিনুরের মতো নেতাদের খুন করছেন। দলকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁদের দূর করতে না পারলে হাসিনুরের মতো আরও নেতাদের প্রাণ দিতে হতে পারে। এ জন্য দলের পক্ষ থেকে হাসিনুর হত্যার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
সভায় বক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসিনুরকে মূলত হত্যা করা হয়নি। সাংসদ সরওয়ারকে ছোট করতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসিনুর হত্যাকারী মজিবরকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে

হাসিনুর রহমানের হত্যাকারী, মদদদাতা, পরিকল্পনাকারীদের বিচারের দাবিতে আজ সকাল ১০টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে এই সভা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সাংসদ আ ক ম সরওয়ার জাহান।

সভায় বক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসিনুরকে মূলত হত্যা করা হয়নি। সাংসদ সরওয়ারকে ছোট করতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসিনুর হত্যাকারী মজিবরকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে। এর পেছনে দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা মোশতাকের মতো লোক রয়েছেন। তাঁরা পরিকল্পনা করে মদদ দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

default-image

শোকসভায় বিশেষ অতিথি ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান মিঠু বলেন, দলের ত্যাগী নেতারা আজ অভিমান করে ঘরের মধ্যে বসে আছেন। তাঁদের মূল্যায়ন করতে হবে। না হলে হাসিনুরের মতো অনেক নেতাকে হারাতে হবে। দলের মধ্যে এখন সাইবেরিয়ার পাখি। দলের ত্যাগী নেতারা নাই।

প্রধান অতিথি সাংসদ সরওয়ার জাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হাসিনুরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখানে মজিবরকে গুটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে মজিবর রহমান তাঁর ছেলে আনোয়ার হত্যার প্রতিশোধ নিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু এটা অপপ্রচার, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক। এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে ষড়যন্ত্রকারী ও পরিকল্পনাকারী রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন, দৌলতপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাদিকুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

গত শনিবার উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পদ্মা নদীর পাড়ে হাসিনুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া মজিবর রহমানকে পুলিশ আটক করে। পরে হাসিনুরের মামাতো ভাই আবদুল জব্বার বাদী হয়ে মজিবর, তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীরসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার–পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মজিবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন