এ প্রসঙ্গে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ আছে। এখন দল যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তাহলে ভিন্ন কথা। মাত্র তফসিল ঘোষণা করা হলো। ইভিএমে বিএনপি ভোটে যাবে কি না, তা–ও দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম ভোট হয়। ওই নির্বাচন ইভিএমে হওয়ার কারণে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ অবস্থায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মনিরুল হক দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র পদে জয়ী হন। পরে দল তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেয়। মনিরুল আবারও দলে বহাল হন। ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ দ্বিতীয় নির্বাচনে মনিরুল দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে জয়ী হন। এক দশক পর আবারও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হচ্ছে ইভিএমে। এ অবস্থায় বিএনপি ইভিএমের এই নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা নিয়ে দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

নেতা–কর্মীরা বলছেন, বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীন কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ক্ষেত্রে অনড় রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও নির্বাচন করতে আগ্রহী বর্তমান মেয়র মো. মনিরুল হক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পী। তবে মনিরুল দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। দল নির্বাচনে না গেলে তিনি অনুসারীদের সঙ্গে কথা বলে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন।

কাউসার জামান বলেন, ‘দল ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চায়। নেতা–কর্মীরাও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। ইভিএম নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে। আমি দলের বাইরে যাব না।’

বর্তমান মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘দল (বিএনপি) নির্বাচন করলে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আমি তো দলের বাইরে না। আর দল নির্বাচন না করলে আমার অনুসারী নেতা–কর্মী, সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন