বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সালমা আক্তার ও শাহজাহান মিয়া দুজনই প্রতিবন্ধী। ভিক্ষা করতে গিয়ে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে বিয়ে। দারিদ্র্যের সংসারে এসেছে সন্তান। আয় না বাড়লেও বেড়েছে খরচ। এ অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে সালমা আক্তার ও শাহজাহান মিয়ার। এরই মধ্যে নয়নমণি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওই প্রতিবন্ধী দম্পতি এখন দিশেহারা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই আপাতত ওষুধ ও খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবু ওই দম্পতির চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। কষ্টের জীবনেও মেয়েকে নিয়ে তাঁদের বাঁচার নতুন আশা।

খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে সালমা আক্তার ও শাহজাহান মিয়ার। এরই মধ্যে দুই মাসের সন্তান নয়নমণি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওই প্রতিবন্ধী দম্পতি এখন দিশেহারা।

মানসিক প্রতিবন্ধী সালমা আক্তারের বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। শৈশব থেকেই তাঁর চলার পথ কাঁটায় ভরা। সালমাকে জন্ম দিয়ে আঁতুড়ঘরেই মারা যান তাঁর মা জাহানারা বেগম। কৈশোরে পা রাখার আগেই হারান বাবা ওহাব আলীকেও। এ অবস্থায় দাদির কাছে বড় হন সালমা। সেই দাদিও একসময় অসহায় নাতনিকে রেখে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আপন বলতে আর কেউ নেই সালমার। কখনো প্রতিবেশীদের সহযোগিতায়, কখনো ভিক্ষা করে জীবন কাটছিল মেয়েটির।

ভিক্ষা করতে গিয়েই বছর দুই আগে পরিচয় হয় প্রতিবন্ধী শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। জন্মগতভাবেই তাঁর ডান পা বাঁকা। চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। শাহজাহানের বাড়ি নোয়াখালীর বসুরহাটের চরক্লার্ক গ্রামে। তবে শুধু পরিচয় দেওয়ার জন্যই শাহজাহানের বাড়ির কথা বলা। জমিজমা দূরের কথা, ওই গ্রামে আদতে তাঁর জন্মভিটাও নেই। বেঁচে নেই মা-বাবা, নেই ভাইবোনও। অনেকটা সালমার মতোই অবস্থা। শাহজাহান ও সালমা এখন বাস করেন মোহাম্মদপুর গ্রামে সালমার দাদির রেখে যাওয়া ছোট্ট একটা ঘরে। জরাজীর্ণ বসতঘরে বসবাস। ফলে বৃষ্টি হলেই ভিজতে হয়। বাড়িতে নলকূপ, শৌচাগার কিছুই নেই।

১৮ সেপ্টেম্বর এই দুজনকে নিয়ে প্রথম আলোর অনলাইনে ‘খেয়ে না খেয়ে প্রতিবন্ধী দম্পতি, কেউ খোঁজ রাখে না’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তখন এই দম্পতি বলছিলেন, সরকারি অনুদান পেলে অন্তত মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই বানিয়ে জীবন যাপন করতে পারতেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন