বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগরের হেতমখা কবরস্থানে পাকা কবরের সংখ্যা বেশি। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ওই প্রকৌশলী বলেন, এ কারণে সেখানে পুরোনো কবর ভাঙার কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে।

নগরের গৌরহাঙ্গা কবরস্থানে নতুন মাটি পড়েছে। ছেলের কবর চাপা পড়েছে নতুন মাটির নিচে। আন্দাজ করে নতুন মাটিতেই ছেলের কবরের সীমানা চিহ্নিত করছিলেন বাবা আবু সাঈদ। গত শুক্রবার তিনি গৌরহাঙ্গা কবরস্থানে গিয়েছিলেন।

আবু সাঈদের বাড়ি রাজশাহী নগরের বর্ণালির মোড়ে। তিনি বলেন, দেড় বছর আগে তাঁর ছেলে হঠাৎ বমি করতে করতে মারা যায়। নতুন মাটি ফেলার কারণে ছেলের কবরের চিহ্নটাও হারিয়ে যাবে। তবুও দাগ টেনে রাখছেন, কোনোভাবে যাতে ছেলের কবরের স্থানটি শনাক্ত করা যায়।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর অনেকেই কবরস্থানে স্বজনদের জন্য দোয়া করতে আসেন। তাদের অনেকেই স্বজনের কবরের স্থানটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কেউ কবরের পাশে লাগানো গাছ দেখে আন্দাজ করে স্থান শনাক্ত করেন। এরপর পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন।

২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান নগরের শিরোইল কলোনি এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম। তাঁর কবরটি পুরোনো কবর হিসেবে মাটির নিচে চাপা পড়েছে। সেখানে বাঁশের খুঁটি পুঁতে মৃত ব্যক্তির নাম কাগজে লিখে লেমিনেটিং করে ঝুলিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নগরের আসাম কলোনি এলাকার লাইলী বেগমের কবরটিও নতুন মাটির নিচে পড়েছে। তার স্বজনেরা অনুমান করে ওই কবরের জায়গায় নামফলক বসিয়ে দিয়ে গেছেন। কবরের চৌহদ্দি আন্দাজ করে এর চারপাশে ফুলগাছও লাগিয়ে দিয়ে গেছেন।

গৌরহাঙ্গা কবরস্থানে কয়েকটি পাকা কবর শুধু অবশিষ্ট থাকছে। এর মধ্যে একটির নামফলকে দেখা যায়, কবরটি ১৯৭৭ সালের। মৃত ব্যক্তির নাম ফাতেমা বিবি। ১৯৭৯ সালের একটি কবরের নামফলকে লেখা মোহাম্মদ ইয়াসিন ডিএফওর নাম।

মাসখানেক আগে থেকে গৌরহাঙ্গায় কবর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আবার নতুন কবর দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে কেউ আর কবর বাঁধাননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন