ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিনিকেট হিসেবে পরিচিত সরু ধান হাটে প্রতি মণ ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাটারিভোগ জাতের সরু ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ব্রি-২৮ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে। চিনিগুঁড়া সুগন্ধি ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা মণ দরে।

ব্যবসায়ী ও আড়তদারেরা বলছেন, দুই সপ্তাহ আগে এই হাটে মিনিকেট ও কাটারিভোগ জাতের ধান প্রতি মণ যথাক্রমে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর ব্রি-২৮ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৮৫০ টাকা দরে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব ধরনের ধানের দাম গড়ে ২০০ টাকা করে বেড়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাজারমূল্য ভালো হলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলন বিপর্যয়ের কারণে এবার বিঘাপ্রতি গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে তাঁদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৯ লাখ ৬ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন। এবার ঝড়-বৃষ্টি এবং ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে এপ্রিল মাসের শেষ থেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। একমাত্র নন্দীগ্রাম উপজেলা বাদে অন্য উপজেলায় কৃষকের খেত থেকে ধান কাটা মাড়াই ৩৫ শতাংশ শেষ প্রায়। নন্দীগ্রাম উপজেলায় বোরো কাটা-মাড়াই ও হাটবাজারে বোরো ধানের কেনাবেচাও শেষের দিকে।

হাটে আসা কৃষকেরা বলছেন, এপ্রিল মাস থেকে ঘনঘন ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ মাঠে বোরোখেতের ধান মাটিতে নুয়ে গেছে। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে পাকা ও আধা পাকা ধান। এতে ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। অন্যবার বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ধানের ফলন হলেও এবার বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ১৬ থেকে ১৮ মণ। এতে ভালো দাম পেয়েও উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি তাঁরা। অধিকাংশ কৃষক আগাম ধান কেটে কম দামে বিক্রি করে দিয়েছেন। কৃষকের ঘরের ধান বিক্রিও প্রায় শেষের দিকে। এখন ধানের দাম মণপ্রতি ২০০ টাকা বাড়লেও তাতে খুব বেশি কৃষকেরা লাভবান হবেন না।

রনবাঘা হাটে কেনাবেচা হওয়া ধান যায় কুষ্টিয়ার খাজানগর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে। গত সোমবার এই হাটে ২০ মণ ধান বিক্রি করতে আসেন নন্দীগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আফতাব আলী। তিনি বলেন, ‘এবার ১৫ বিঘা জমিনত বোরো লাগাইচিলাম। ব্যামাক জমিনত মানুষের কাছ থেকে পত্তন লেওয়া। বোরোর জমি পত্তনী খরচ বিঘায় আট হাজার টেকা। আছে হালচাষ, সার, কীটনাশক, সেচ, কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ। গতবার খেত থ্যাকে বোরো ধান কাটার খরচ আচলো বিঘায় তিন হাজার টেকা। এবার শ্রমিক কম। ঝড়ত ধান হেলে হেচে। খেতত ধান লষ্ট হচ্চে। বাধ্য হয়্যা বেশি দামে ধান কাটতে হচে। ধান কাটতেই মজুরি গুনতে হচে বিঘায় পাঁচ হাজার টেকা। সব মিলে বিঘায় বোরো চাষে খরচ গড়ে প্রায় ২০ হাজার টেকা। প্রতি বিঘা জমিত ধানের ফলন হচে ১৬ মণ। ১ হাজার টেকা মণ দরে ধান বেচ্চি। ভ্যানভাড়া বাদে ঘরত তুলচি ১৫ হাজার টেকা। বিঘাপ্রতি লোকসান হচে পাঁচ হাজার টেকা।’

রনবাঘা হাটের আড়তদার ও আরিফ ট্রেডার্সের মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে হাটে নতুন ধানের আমদানি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুর দিকে ধানের দাম ছিল গড়ে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। এখন পাইকারদের ভিড় বেড়েছে। ধানের দামও বেড়েছে।

আরেক আড়তদার মাহবুব হোসেন বলেন, অধিকাংশ কৃষকের ঘরে বোরো ধান এখন শেষের দিকে। হাটে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় শুধু যাঁদের ঘরে ধান আছে, তাঁরাই লাভবান হচ্ছেন।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন বলেন, এবার জেলায় বোরো ধানে বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৩ মণ ধানের ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারমূল্যও ভালো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন