বিজ্ঞাপন

রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় ও খুলনা নগরের একমাত্র পশুহাট জোড়াগেট এলাকার পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশি, বিদেশি, মিশ্র প্রজাতির নানান রঙের গরু আছে। কম দামি গরু যেমন আছে; ৭-৮ লাখ টাকার গরুও আছে। তবে সংখ্যায় তা অন্য বছরের চেয়ে অনেক কম। লোকজনের উপস্থিতিও বেশ কম। তবে যাঁরা আছেন, উৎসাহ নিয়ে গরু দেখছেন ও দাম জানতে চাইছেন। কিন্তু বেশির ভাগই এক জায়গায় দাম শুনে অন্য জায়গায় দাম শুনতে যাচ্ছেন। ফলে ঈদের দুই দিন আগেও বিক্রি এখনো জমেনি।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরুর সংখ্যা অনেক কম, নতুন করে কিছু গরু আসছে। ছোট গরু যা একটু বিক্রি হচ্ছে, বড় গরুতে এখনো আগ্রহ নেই। তবে খুলনা শহরের লোকজন কয়েক দিন গরু দেখলেও মূলত ঈদের আগের দুই দিন কেনেন। কাজেই সোম ও মঙ্গলবার বিক্রি বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আলাপে জানা গেছে, গড়ে ৪০ হাজার থেকে ৮ লাখ টাকার গরু আছে এবারের হাটে। হাটে বড় ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি। সেখানকার ৭০ শতাংশ গরু নড়াইলের কালিয়া থেকে এসেছে। কিছু কিছু বাগেরহাটের ফকিরহাটের, খুলনার ডুমুরিয়া ও দিঘলিয়ার। রোববার দুপুরেও বেশ কিছু বড় গরু হাটে এসেছে। আবার অনেকে দু-চারটি করে গরু হাটে তুলেছেন। বিক্রির অবস্থা দেখে আরও আনবেন।

নগরের রূপসা এলাকার মো. আশরাফুল নামের একজন ক্রেতা বলেন, বিক্রেতা এখনো একটা দাম চেয়ে বসে থাকছেন। এমনভাবে কথা বলছেন নিলে নেন, না নিলে থাক। আবার রাখার জায়গার অসুবিধার কারণে খুলনায় ঈদের এক দিন আগেই হাট জমে যায়। হাতে সময় আছে বলে হয়তো ব্যাপারীরা এমনটা করছেন।

হাট ঘুরে দেখা গেল, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতাসহ হাটের সার্বিক পরিবেশ বেশ ভালো। প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে ভেতরে বেশ কয়েক জায়গায় হাত স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হাটের একেবারে ভেতরে মাস্ক পরার প্রবণতা বেশ কম, বিশেষ করে বিক্রেতাদের।

দিঘলিয়ার খানপাড়া গ্রামের খান মোজাফফর হোসেন ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক মো. আরমান হাটে বড় ও মাঝারি আকারের সাতটি গরু এনেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই হাটে আছেন তিনি। গরু খুব কম, ক্রেতাও কম। এখনো বিক্রি হয়নি। ক্রেতারা দাম শুনছেন, চলে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের খামার থেকেই ২০টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

আরেক বিক্রেতা কালিয়ার মো. সাদেক শেখ বলেন, বিভিন্ন আকারের ৩০টি গরু এনেছেন। ২-৩টি বিক্রি হয়েছে। ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার গরু বেশি খুঁজছেন ক্রেতারা।

প্রতিবারের মতো এবারও হাটে আসা তুকু শেখ নামের একজন খামারি বলেন, হাটে গরু এবার কম। আবার ক্রেতারা এখনো আগ্রহী না। দাম বলে চলে যাচ্ছে। হাট এখনো না জমলেও সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাট জমবে বলে আশা তাঁর।

নগরের পাওয়ার হাউস এলাকার ব্যবসায়ী মো. খালিদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাট থেকেই গরু কিনি। দু-তিন দিন ধরে হাটে আসছি। তবে কিনতে পারছি না। গত বছর যে গরুর দাম ৭০ হাজার ছিল, এবার তা লাখের ওপর বলছে। আরেকটু দেখেশুনে কিনব।’

পশুর হাট কেন্দ্র করে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তৎপর। তবে তাঁদেরও বেচাবিক্রি এখনো জমেনি। হাটের পাশে বিক্রি হচ্ছে গাছের গুঁড়ি, পশুখাদ্য, দড়ি, খড়, তাজা ঘাস, হাতপাখা, রঙিন কাগজ, কাপড়ের মালা, হোগলা চাটাই, টুকরি প্রভৃতি।

মো. বাবু নামের একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে জানালেন, বিক্রি ভালো বলা যায় না। তবে আস্তে আস্তে হাট জমলে বিক্রিও বাড়তে পারে।

১৫ জুলাই শুরু হয়েছে এই হাট। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালিত এই হাটে ৫ শতাংশ হারে হাসিল আদায় করা হচ্ছে। রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৪৩টি গরু ও ৮৭টি ছাগল বিক্রি হয়েছে। আর তা থেকে ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা হাসিল আদায় হয়েছে।

কেসিসির বাজার কর্মকর্তা মো. সেলিমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, অনেকে হাটে আসছে তবে বিক্রি এখনো কিছুটা কম। আশপাশের হাটগুলো ভেঙে যাচ্ছে, হাটে আরও গরু আসবে। এই হাটের ক্রেতা–বিক্রেতা অনেকটা নির্দিষ্ট। তাই কেনাবেচা অন্য বছরের মতোই হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন