default-image

ম্যাচের প্রায় পুরো সময় মাঠ দাপিয়ে বেড়ান তিনি। নৈপুণ্যে মুগ্ধ করেন দর্শকদের। খেলা শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে অসুস্থ বোধ করে বেরিয়ে যান তিনি। চিকিৎসকও দেখান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন তিনি। খেলায়ও তাঁর দল হেরেছে। আজ শনিবার এ ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।

ওই খেলোয়াড়ের নাম মাহাবুর রহমান (৩০)। তিনি বাগমারা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। মাহাবুর পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন ও দর্শকদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ফুটবল একাডেমি আজ বাগমারা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। এতে বাগমারা ফুটবল একাডেমি ও উত্তর একডালা ফুটবল দল মুখোমুখি হয়। খেলায় স্বাগতিক দলের হয়ে অংশ নেন মাহাবুর। ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় উত্তর একডালা। তবে মাহাবুর মনোবল হারাননি। সতীর্থ খেলোয়াড়দের নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে লড়ে যান তিনি। অসাধারণ নৈপুণ্যে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার আগে অসুস্থ বোধ করায় মাঠে ছেড়ে যান মাহাবুর। হেঁটেই চলে যান পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেন চিকিৎসক। ফেরার পথে আবার বুকে ব্যথা অনুভব করেন মাহাবুর। সেখানেই লুটিয়ে পড়ে চেতনা হারিয়ে ফেলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
default-image

স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে তাঁকে আবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে রাজশাহী নগরের নওদাপাড়ায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ৯টায় তাঁর লাশ বাড়িতে আনা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চিকিৎসক জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মাহাবুর মারা গেছেন। লক্ষণে সে রকম মনে হয়েছে।
ওই ম্যাচের কয়েকজন দর্শক জানান, আজকের খেলায় সেরা খেলা উপহার দিয়েছেন মাহাবুর। বল পেয়েই মাঠের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর দল জিততে পারেনি। নিজেও মৃত্যুর কাছে হারলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও ম্যাচের দর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, মাঠের দুই দলের মধ্যে সেরা ছিলেন মাহাবুরই। এই সেরা খেলোয়াড়ের লাশ তাঁকেই বহন করতে হলো।

ম্যাচের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, মাহাবুর রহমান আগ থেকেই ভালো খেলোয়াড়। আজও অন্য রকম খেলা দেখিয়েছেন তিনি। তাঁর দৃষ্টিতে আজকের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন মাহাবুরই। সেই খেলোয়াড়ই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0