বিজ্ঞাপন

পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে কোনো এলাকা ভাঙেনি। যে এলাকাগুলো ভেঙেছিল, তা সংস্কার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু জোয়ারের পানির উচ্চতা ও চাপ এতটাই বেশি ছিল যে বাঁধ আর চাপ ধরে রাখতে পারেনি। বুধবার দুপুরের জোয়ারের মতোই বৃহস্পতিবার দুপুরের জোয়ারে প্রায় একই উচ্চতায় পানি উঠেছিল।

বুধবার দুপুরের জোয়ারের উচ্চতা ছিল সাত থেকে আট ফুট। পূর্ণিমার প্রভাব থাকায় রাতে জোয়ারের পানি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেছিল কয়রার মানুষ। এ কারণে তারা অনেকটা আতঙ্ক নিয়ে রাতে ঘুমাতে গিয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, রাতের জোয়ারে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বেশি ছিল। তাতে কোনো এলাকাতেই খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। রাতে বাতাসের বেগও কম ছিল।

default-image

কয়রার বৃহস্পতিবার ভোর শুরু হয় রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া দিয়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে প্রকৃতি। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে প্রবল দমকা হওয়ার সঙ্গে শুরু হয় থেমে থেমে বৃষ্টি। প্রায় দিনভর কালো মেঘে ঢেকে ছিল আকাশ। মাঝেমধ্যে সূর্যের হাসির দেখা মিললেও তা ছিল ক্ষণিকের জন্য। দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করা কয়রার লোকজন বলছেন, আম্পানের পর এমন পানির চাপ আর দেখেননি। বিশেষ করে পূর্বদিকের প্রবল বাতাস জোয়ারের পানি ও ঢেউয়ের উচ্চতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাতাস কমে গেলে জোয়ারের পানির উচ্চতা কমে যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদ এবং বেলা দেড়টার দিকে উত্তর বেদকাশী এলাকার শাকবাড়িয়া নদীর ধারে গিয়ে দেখা যায়, উত্তাল নদী, কিনার ছুঁই ছুঁই পানি। কোথাও কোথাও বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে বাঁধের ওপর। তাতে মাটির বাঁধ ভাঙার উপক্রম।

default-image

এলাকাবাসী জানান, বুধবার দুপুরের জোয়ারে দশালিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ মেরামতে বিকেল থেকেই এলাকাবাসী কাজ শুরু করেন। রাতের জোয়ার আসার আগপর্যন্ত কাজ চলে। ভোরের দিকে জোয়ারের পানি সরে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু করেন তাঁরা। ভাঙা বাঁধ অনেকটা মেরামত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের জোয়ারের পানির উচ্চতার কাছে, তা আর টিকতে পারেনি।

বুধবার দুপুরের জোয়ারে দক্ষিণ বেদকাশীর আংটিহারা এলাকার প্রায় ১০০ ফুটের মতো বাঁধ ভেঙে অন্তত চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ওই এলাকার মো. আবু সাইদ বলেন, বিকেল থেকে কাজ করে, তা মেরামত করে ফেলেন এলাকাবাসী। রাতে সেখান দিয়ে আর পানি প্রবেশ করেনি। তবে বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে পানির চাপে ওই স্থানের বাঁধ আবার ভেঙে গেছে।

কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া নদীর আংটিহারা, বীণাপাণি এলাকা; উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের একই নদীর গাতিরঘেরি, পদ্মপুকুর এলাকা; মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কয়রা নদীর তেঁতুলতলা, চৌকনি, শিংয়ের চর এলাকা; মহারাজপুর ইউনিয়নের কয়রা নদীর পবনা ও মঠবাড়ি এলাকা এবং কপোতাক্ষ নদের দশালিয়া এলাকার বাঁধ ভেঙে গেছে।

default-image

কয়রা উপজেলাটি পড়েছে পাউবোর সাতক্ষীরা অঞ্চলের বিভাগ-২-এর আওতায়। ওই বিভাগের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, রাতে জোয়ারের পানি খুব বেশি না বাড়ায় মনে করা হচ্ছিল, এ যাত্রায় হয়তো আল্লাহ রক্ষা করেছেন। কিন্তু সকাল থেকে ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঢেউও খুব বেড়েছে। বুধবারের চেয়ে জোয়ারের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় এক ফুট বেশি। বাঁধ মেরামতের জন্য রাতভর এলাকার মানুষ যে কষ্ট করেছেন, তা বৃথা হয়ে গেছে। এখন দেখা যাক পরবর্তী সময়ে কী হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন