default-image

কমিটির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীসহ কমপক্ষে ১০ আইনজীবী আহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ জাকিয়া তাবাসসুম।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাওয়ার আহমেদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ফোরামের আইনজীবী হাবিবুল্লাহকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে সাধারণ সভা ডাকে বর্তমান কমিটি। সভায় কমিটির মেয়াদ বাড়ানোসহ পূর্বের কমিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরীক্ষা কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আগের কমিটির নেতারা বর্তমান কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে আপত্তি তোলেন এবং সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। এরপরই সভাকক্ষে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আদালত চত্বরে বটতলায় অবস্থান নেন এবং আগের কমিটির নেতারা আইনজীবী সমিতি ভবনে আশ্রয় নেন। বর্তমান কমিটির নেতারা দফায় দফায় আগের কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা চালান। মারধরের শিকার হন আইনজীবী রাজিউল ইসলাম। আইনজীবী মেহেরুল ইসলামের কক্ষে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তালা দেন বর্তমান কমিটির সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

সাধারণ সভার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও আইনজীবী জাকিয়া তাবাসসুম। আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে অবস্থান নেন সাংসদ। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। সাংসদ বলেন, ‘প্রতিদিনকার মতন আমি আমার টেবিলে বসে ছিলাম। হঠাৎ সাবেক আইনজীবীরা জঙ্গিদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। আমি জিজ্ঞেস করেছি, কোথায় জঙ্গি পাইলেন, ভাই? আমি আমার চেয়ারে বসব, সেটা রাইট আছে কি না? তাঁরা আমার চেয়ার দখল করে আমার জায়গায় শুয়ে পড়লেন। আমি একজন এমপি হয়ে কাজের বুয়ার মতো সাইডে সরে গেলাম। কেন?’

default-image

সাংসদ বলেন, ‘আমি কার বিরুদ্ধে বলব? সাবেক সেক্রেটারি আওয়ামী লীগের, বর্তমান সেক্রেটারি আওয়ামী লীগের। দুই গ্রুপের মারামারি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করব, ভিডিও ফুটেজ এনে এই আইনজীবীদের লাইসেন্স বাতিল করে বাড়িতে পাঠায় দিবেন।’

আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন নুরুজ্জামান জাহানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তৌহিদুল হক সরকার। জানা যায়, সংবিধানের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর চৈত্র মাসে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। করোনার কারণে নির্বাচন পাঁচ মাস পিছিয়ে গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন মাজহারুল ইসলাম সরকার ও সাধারণ সম্পাদক হন সাইফুল ইসলাম।

সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে অনুদানের ৫০ লাখ টাকা দিয়ে সমিতির ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরে আর্থিক সংকটের কারণে সমিতির সাধারণ ফান্ড থেকে কিছু টাকা ঋণ গ্রহণ করে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। নির্মাণের সব খরচের বিল–ভাউচার সংরক্ষিত আছে। তারপরও বর্তমান কমিটি নিজেদের মনগড়া তদন্ত কমিটি করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনে। সংবিধান লঙ্ঘন করে বর্তমান কমিটি তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। এই বিষয়গুলোর প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

তাঁরা আমার চেয়ার দখল করে আমার জায়গায় শুয়ে পড়লেন। আমি একজন এমপি হয়ে কাজের বুয়ার মতো সাইডে সরে গেলাম। কেন?’
জাকিয়া তাবাসসুম, দিনাজপুর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ও আইনজীবী

এ সময় বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য সাধারণ সভায় আলোচনা চলছিল। কিন্তু যখনই বর্তমান কমিটি কোনো মিটিং আহ্বান করে, তখনই তারা এসে হামলা চালায়। এর আগে এ ধরনের ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, কমিটির নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা হয়নি। যদি কেউ অভিযোগ করেন, তাহলে পুলিশ সে অভিযোগ আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন