জেলা সিভিল সার্জনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দিনাজপুরে করোনা রোগীদের জন্য জেলার হাসপাতালগুলোয় ২৬৬টি শয্যা আছে। এর মধ্যে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৬টি, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৩০টি, কাহারোল উপজেলায় ২৫টি, বিরলে ২৫টি, পার্বতীপুর ল্যাম্প হাসপাতালে ১০টি এবং ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি করে মোট ১০০টি।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৬টি শয্যা থেকে বাড়িয়ে ৯৬টি করোনা শয্যা চালু করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৬। রোগী বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি করা হয়েছে দুজন।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এই হাসপাতালে চিকিৎসক প্রয়োজন ৫৯ জন। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ আছেন ১৮ জন। মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৩০ জন। অন্যদিকে, প্রতিদিন জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন পাঁচ শতাধিক রোগী।

করোনা ইউনিট চালুর পর থেকে এই হাসপাতালে নতুন করে ১২ জন চিকিৎসক দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। একজন বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে বর্তমানে করোনা ইউনিটের জন্য চিকিৎসক আছেন আটজন। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কারণে এই ৮ জন চিকিৎসক বিভিন্ন সময় বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে করোনা ইউনিট চালু হওয়ার পর ওই আটজন চিকিৎসক আগের মতো অন্য বিভাগে সেবা দিতে পারছেন না।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট; তার ওপর ৩০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু হলো। রোস্টার করে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দিতে যেখানে সর্বনিম্ন ২০ জন চিকিৎসক দরকার, সেখানে আছেন আটজন। যেভাবে করোনা রোগী বাড়ছে, তাতে চিকিৎসকসংকটে রোগীদের সেবা দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে।’

একই কথা বলছেন এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবু রেজা মো. মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে করোনা রোগীর শয্যা করা হয়েছে ৯৬টি। রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রোগী বিবেচনায় বর্তমানে যেখানে ৪০ জনের বেশি চিকিৎসক দরকার, সেখানে চিকিৎসক আছেন ২৮ জন।

জেলার জেলা সিভিল সার্জন বলেন, উপজেলার সব হাসপাতালেই চিকিৎসকসংকট রয়েছে। কিছুদিন আগে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৫০ জন চিকিৎসক এনে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু করোনা রোগী বাড়ছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো আছে। শিগগিরই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করা যাবে বলে আশাবাদী তিনি।