৫ নম্বর বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সন্তোষ জীবন চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবুছড়ার দুর্গম এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় কেউ মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারিনি।’

ইউপিডিএফ তাদের সংগঠক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য জেএসএস (সন্তু) পক্ষকে দায়ী করেছে।

২০২০ সাল থেকে সাংগঠনিক এলাকায় অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকালে দুর্গম বুদ্ধধন কার্বারিপাড়া এলাকায় জেএসএস (সন্তু) পক্ষ ও ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ চলে। এ সময় এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ইউপিডিএফ দাবি করেছে, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। তাদের সংগঠনের কর্মীদের ওপর জেএসএস (সন্তু) পক্ষ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এর আগে গত ১২ ও ১৯ জুন জেএসএস (সন্তু) পক্ষ ও ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজন হতাহতের ঘটনা ঘটলেও কোনো পক্ষই তা স্বীকার করেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জেএসএস (সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফের (প্রসীত খীসা) উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি হয়। ২০২০ সাল থেকে সাংগঠনিক এলাকায় অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর ১১৫ জন কার্বারি (গ্রামপ্রধান) যৌথ বিবৃতি দিয়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ এবং ২০১৮ সালের সমঝোতা চুক্তি মেনে চলার জন্য সংগঠন দুটির প্রতি আহ্বান জানান।

ইউপিডিএফের উপজেলা সংগঠক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকালে জেএসএস (সন্তু) পক্ষের লোকজন আমাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমাদের জীবন ত্রিপুরা নামের এক সংগঠক মারা গেছেন। তিনি বুদ্ধধন কার্বারিপাড়া এলাকায় সাংগঠনিক কাজে গিয়েছিলেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আমরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি।’

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম পেয়ার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি অনেক দুর্গম এলাকায় ঘটেছে। সেখানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন