সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, ১৯ বছর আগে মা পরিতুন নেছা মারা যাওয়ার পর তাঁদের বাবা সোহরাফ হোসেন আপন খালা ফাতেমা আক্তারকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই তাঁদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করেন বাবা। বাবার নির্যাতনে তাঁদের দুই বোনের হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া তাঁদের নামে আদালতে ডাকাতির মামলাও করেন তিনি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বড় বোন মারুফা আক্তারের বাড়িতে আশ্রয় নেন ছোট বোনেরা। মারুফার স্বামী ফজুলল করিম তাঁদের ভরণপোষণসহ পড়াশোনা করিয়েছেন।

বড় বোন মারুফা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মা যখন মারা যান, তখন আমার ছোট বোনের বয়স তিন মাস। ওরা বাবার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার বাড়িতে চলে আসে। বোনদের আশ্রয় দেওয়ায় বাবা আমাকে ও আমার স্বামীকে বেশ কয়েকবার নির্যাতন করেছেন। মামলার আসামি করেছেন। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করেন তিনি। এ জন্য কয়েক দিন স্বামী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন।’

খাদিজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবা আমাদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমাদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন, গালাগালি করেন। শুধু তা–ই নয়, আমাদের দেখতে কোনো পাত্রপক্ষ এলে, বাবা তাঁদের কাছে আমাদের বিষয়ে বদনাম করেন। নিরুপায় হয়ে বাবার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি।’

আরেক বোন জেসমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছোট থাকতে মা মারা যাওয়ায় বড় বোন আমাদের লালনপালন করেছেন। পড়াশোনা করিয়েছেন। আমার বাবা রড দিয়ে পিটিয়ে আমার হাত ভেঙে দিয়েছিলেন। নির্যাতনের পর চিকিৎসা পর্যন্ত করাননি।’

অভিযোগের বিষয়ে সোহরাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওরা (মেয়েরা) যখন আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে, আমিও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করব। আমার বিরুদ্ধে ওরা যেসব অভিযোগ করেছে, সবই মিথ্যা। অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি ওদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি, তা সত্য। কিন্তু ওরাও আমার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে।’

চংড়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির ফরাজী প্রথম আলোকে বলেন, বাবার বিরুদ্ধে তিন বোন যেসব অভিযোগ করেছেন, সবই সত্য। গ্রামে সালিসের মাধ্যমে তাঁরা অনেকবার সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সোহরাফ সালিসের সিদ্ধান্ত মানতে চান না। সালিস বৈঠকে নির্যাতনের অভিযোগগুলোর সত্যতা পেয়েছেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন