বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকায় পারাপারের জন্য যানবাহন অপেক্ষমাণ। এসব পরিবহনের অনেকগুলোই তিন দিন ধরে অপেক্ষা করছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঢাকাগামী ট্রাকগুলো এ রাস্তায় পারাপারের জন্য সিরিয়ালে রাখা হচ্ছে। রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে আসা ট্রাক, কার্ভাড ভ্যান, পার্সেল বহনকারী পরিবহন এখানে সিরিয়ালে রাখা হচ্ছে। ট্রাকের সিরিয়াল কল্যাণপুর ব্র্যাক শিক্ষা অফিস পার হয়ে প্রায় পাটকল এলাকায় পৌঁছেছে।

ট্রাকচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘তিন দিন ধরে এখানে অপেক্ষা করছি। এখন পুলিশ বলছে, বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঢাকা যেতে হবে। কিন্তু তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকায় গেলে আমাদের অনেক খরচ পড়বে। তবে অনেকেই দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আগে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আগে থেকেই যোগাযোগ করে আসেন। এ ছাড়া বাসের চাপ কম থাকলে পুলিশও টাকা নেয়। কিছুদিন আগে আমি নিজেও পুলিশকে টাকা দিয়েছি। কারণ, মাঝেমধ্যে জরুরি মালামাল থাকলে আমাদের অনেক লোকসান হয়। তখন বাধ্য হয়েই দালাল ধরতে হয়।’

ট্রাকচালক রওশন আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে গেছে। মালিক খাবারের জন্য কিছু টাকা দেন। কিন্তু যানজটে থাকলে তা ফুরিয়ে যায়। তখন নিজের টাকা দিয়ে খেতে হয়। এতে দেখা যায়, কাজ করার পরও আমাদের লোকসান হচ্ছে। আমাদের মূল বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের শ্রম বৃথা যাচ্ছে।’

আরেক চালক বলেন, ‘আমি কোম্পানির চাকরি করি। ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর বাউফল হয়ে যশোরে গিয়েছিলাম। দুই জায়গায় মাল ডেলিভারি দিয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছি। কিন্তু পরশু আসার পর থেকে এখানে অপেক্ষা করছি। এটা তো টার্মিনাল না, ঘাটও না, ফাঁকা রাস্তা। এখানে না আছে শৌচাগার, না আছে খাবারের হোটেল। আমার ট্রাক ছোট হওয়ার পরও সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে।’

রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আলী আকবর হোসেন বলেন, ‘৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ গাড়ি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছে। সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছি। এই সময়ের মধ্যে অনিয়ম করে কোনো যানবাহন যায়নি। গোয়ালন্দ ঘাট থেকে কর্তৃপক্ষের ফোন পাওয়ার পর ট্রাক পাঠানো হচ্ছে। অনিয়ম করে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়ার ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ফেরি দুর্ঘটনার পর থেকে কয়েকটি ফিটনেসবিহীন ফেরি মেরামতের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। এর মধ্যে আটটি বড়, তিনটি মাঝারি ও চারটি ইউটিলিটি। দুপুরের পর থেকে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কমে গেছে। এখন মালবাহী ট্রাক পারাপার করা হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন