বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কলেজে ভর্তির টাকা জোগাতে কাদের গার্মেন্টসে কাজ করতে গেল। আর ফিরে এল না। লাশও খঁুজে পেলাম না। মিলল শুধু দুটি পা।
আহাদ বক্স, আবদুল কাদেরের বাবা

ববিতা বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় হাত হারালেও সরকারি কোনো সহায়তা মেলেনি। মেরিল-প্রথম আলো তহবিল থেকে দেওয়া এক লাখ টাকা দিয়ে কোনোরকমে বাড়ির পাশে একটা চায়ের দোকান দিয়েছেন। সেই দোকানের উপার্জনে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার চলে।

ববিতার স্বামী আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর বাবা আহাদ বক্স ভূমিহীন বর্গাচাষি। নিজের সহায় সম্বল বলতে তেমন কিছুই নেই। সংসারের অভাব ঘোচাতে স্ত্রীকে নিয়ে সাভারে গিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী ববিতা সাভারের রানা প্লাজার ছয় তলায় ইথার টেক্সটাইল লিমিটেডে কাজ করতেন। আর তিনি ছোট একটা চায়ের দোকান দিয়েছিলেন।

আনোয়ার আরও বলেন, ছোট ভাই আবদুল কাদের বিবিরপাড়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে। টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। কলেজে ভর্তির টাকা জোগাতে ভাবির সঙ্গে কাজে যোগ দেয়।

সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ববিতা বলেন, দেবর-ভাবি একসঙ্গে এক মেশিনেই কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। মুহূর্তেই ভবন ধসে পড়ে। কাদের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ভবনের নিচে চাপা পড়ে। এদিকে প্রচণ্ড শব্দে হুড়মুড় করে মেশিন চাপা পড়ে তাঁদের কয়েকজনের ওপর। চারদিকে চিৎকার আহাজারি আর গোঙানি। তাঁর দম ফুরিয়ে যাচ্ছিল। পায়ের নিচে রক্তের স্রোত। চোখের সামনে ধড়ফড় করতে করতে অনেকেই মারা গেল।

কতক্ষণ সময় গেছে তা বলতে পারবেন না। কে একজন বলল, ভবন কাটা হয়েছে, বের হয়ে এসো। এ সময় বাঁচার প্রাণপণ চেষ্টা করলেন। হাতের কাছে কাঁচি পেলেন। নিজেই ডান হাতে কাঁচি বসিয়ে মেশিন থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করে মুক্ত হলেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হওয়ার পর জ্ঞান হারান। এরপর চোখ খুলে দেখেন হাসপাতালে আছেন। দেড় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ববিতা সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। কিন্তু কাদেরের জন্য তাঁর মা-বাবা লাখতিনেক টাকা সহায়তা পেয়েছেন।

কাদেরের বাবা আহাদ বক্স বলেন, ‘কলেজে ভর্তির টাকা জোগাতে কাদের গার্মেন্টসে কাজ করতে গেল। কিন্তু আর ফিরে এল না। লাশও খুঁজে পেলাম না। মিলল শুধু দুটি পা। আজ পর্যন্ত দোষীরা কোনো শাস্তিও পেল না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন