বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের (মেঘনার মধ্যে জেগে ওঠা চর) রামদাসপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী (মোটরসাইকেল) রেজাউল হক প্রচারণা চালাতে যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চেয়ারম্যান। তিনি প্রচারণা শেষে দুপুরে এক ভোটারের বাড়িতে বিশ্রাম নেন। এমন সময় নৌকার একটি অস্থায়ী কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও বলেন, একই সময় রাজাপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ধলু ভুইয়ার ছেলে নীরব ভুইয়া ও ভাতিজা তাজুল ইসলাম ভুইয়া আনন্দবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে প্রচারণায় বের হন। এ সময় নৌকার কর্মীরা তাঁদের বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে মিজানুর রহমানের কর্মীরা ধলু ভুইয়াকে তুলে নিয়ে যান। রাস্তায় ফেলে রাখেন তাঁর আহত ছেলে ও ভাইয়ের ছেলেকে।

রেজাউল হক বলেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্য রামদাসপুরে নিজেদের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছেন মিজানুর রহমানের লোকজন। শনিবার দুপুরে দুই দফায় হামলা করে তাঁর ৫-৬ জন কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ধলু ভুইয়াকে মিজানুর রহমানের লোকজন অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।

রেজাউল হক আরও বলেন, মাঠে প্রচারে নামলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাঁর কর্মীদের কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম করছেন। এ পর্যন্ত ২০ জনকে আহত করেছেন। কয়েকজন বরিশালে চিকিৎসাধীন। শনিবারের ঘটনাটি মৌখিকভাবে পুলিশ ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন তাঁর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁদের মৌখিকভাবে জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে আলীনগর ইউপিতে শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর ইসলামী আন্দোলন মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আবদুল মমিন মাদ্রাসার বাজার এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। আবদুল মমিন বলেন, এ সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বশির আহাম্মদের সমর্থকেরা হামলা চালান। হামলাকারীরা মাইক ভাঙচুর করেন এবং প্রচারকারী মাওলানা আনোয়ার হোসেন নামের এক কর্মীকে পিটিয়ে জখম করেন। তাঁর পকেটে থাকা ৩১ হাজার ৫০০ টাকা ও দুটি মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যান। গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেনকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল মমিন আরও বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন প্রচার-প্রচারণায় বাধাসহ বিভিন্ন স্থানে টানানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন। তাঁকে পিটিয়ে জখম করেছেন। সন্ত্রাসীরা আনোয়ার হোসেনকে পিটিয়ে দাড়ি-চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে গুরুতর আহত করেছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. বশির আহাম্মদ বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তবে এমন ঘটনা ঘটলে তিনি জানতেন।

এদিকে নির্বাচনী এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরা ও দেশীয় অস্ত্র বহনের দায়ে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে একজনের ১৫ দিনের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ হাসান বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে শিবপুর ইউনিয়নের চাউলাতলী এলাকায় সন্দেহজনক একটি জটলাকে ধাওয়া করলে মো. সোহাগ নামের একজনকে আটক করা হয়। অন্য ব্যক্তিরা দৌড়ে পালিয়ে যান। তাঁর কাছ থেকে তিনটি গুড়াল বাঁশ (গুলতি), ২১টি মার্বেল ও ছয়টি হেলমেট জব্দ করা হয়। পরে তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন