থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল রাত নয়টার দিকে মির্জাপুর বাজারে গাজী হাসানের সমর্থকেরা একটি মিছিল বের করেন। এ সময় নৌকার প্রার্থী সালাউদ্দিনের কর্মীরাও ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। নৌকার কর্মীরা এ সময় গাজী হাসানকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও গাজী হাসানের সমর্থক রাইসুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে নৌকা প্রার্থীর ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী-সমর্থক মির্জাপুর বাজার এলাকায় তাঁদের বাড়ি ও গাজী হাসানের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালান। এ সময় তিনি (রাইসুল) ও তাঁর পরিবারের লোকজন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন ও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। তাঁরা হলেন রাইসুল ইসলাম, তাঁর বাবা আবদুল করিম ও মা হাসিনা খাতুন এবং নৌকা প্রার্থীর কর্মী ওবাইদুর রহমান, মাসুদ ও শান্ত।

স্থানীয় লোকজন জানান, সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ নিজ নিজ এলাকার মির্জাপুর, বেলঘুড়িয়া, আড়াপাড়া ও নাউতি পূর্বপাড়ার মসজিদে ঘোষণা দেন তাঁদের প্রার্থী মির্জাপুর এলাকায় আটকা পড়েছেন। তখন গ্রামের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গাজী হাসান বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী উপস্থিত থেকে পুলিশের সহযোগিতায় আমার অফিস ও কর্মী রাইসুলের পরিবারের ওপর হামলা করেছে। প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে। আমি নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালাউদ্দিন খান জানান, রাতে তাঁর কর্মীরা ভোট চাইতে গিয়েছিলেন। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা তাঁর লোকদের ওপর হামলা চালান। কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে, তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার আগে বা পরে ঘটনাস্থলে তিনি যাননি। তাঁর লোকদের মারধর করে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের কর্মকর্তা গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। রাতে খবর পেয়ে পুলিশ পরিবেশ শান্ত করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন