এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হলেও তাঁরা এখনো গ্রেপ্তার হননি। গ্রেপ্তার মামলার প্রধান আসামি তাছিন মোড়ল ও ৪ নম্বর আসামি দীপ্ত সাহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে হাসিবুল ও হাসনাত আলিফকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

গত ৩১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আলিফকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। আলিফ ওই কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই ঘটনায় পরের দিন আলিফের বাবা সৈয়দ আবু তাহের বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাসনাত, শান্ত ও দীপ্তের নেতৃত্বে ওই এলাকায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছিল। তাঁরা মাদক ব্যবসায় জড়িত ও বিভিন্ন মোড়ে ইভ টিজিং করতেন। রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়ায় তাঁরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। পুলিশ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও হাসিবুল ও হাসনাতকে গ্রেপ্তার করছে না। এটা সন্দেহজনক। ইতিমধ্যে ওই মামলা থেকে তাঁদের বাদ দিতে একটি পক্ষ তোড়জোড় শুরু করেছে। আলিফ হত্যার ঘটনায় মদদদাতাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) খুলনার পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলেন, মূলত মেয়েদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় আলিফকে খুন করা হয়। কয়েক দিন আগে পায়গ্রাম কসবা এলাকার একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে মামলার এক নম্বর আসামি তাছিন ও তিন নম্বর আসামি শান্ত গাজীসহ আরও কয়েকজন একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। এটি দেখে তাঁদের বাধা দেন আলিফ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলিফকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। ঘটনার দিন মোটরসাইকেলে এসে তাঁরা আলিফকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।

নজরুল ইসলাম বলেন, হাসিবুল ও হাসনাত পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন