বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আয়োজকেরা জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে সিলেটে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় আজ ১০০ হুডি শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১৩ জানুয়ারি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর সঙ্গে ১২০ জন শিক্ষার্থী সম্পৃক্ত আছেন। সংগঠনের সদস্যরা উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতক (সম্মান) পর্যন্ত অধ্যয়নরত। সদস্যদের মাসিক চাঁদা ও হাতখরচের বাঁচানো টাকায় সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাঁদের কার্যক্রম দেখে সমাজের অনেক বিত্তশালী মানুষও বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করছেন। খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক বিতরণই মূলত তারা বেশি করে থাকে।

শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে দুই ছেলের জন্য হুডি নিতে আসেন হাসিনা বেগম (৪০)। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কামালবাজার এলাকায় তাঁর বাড়ি। হাসিনা বলেন, তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শীত বাড়লেও টাকার অভাবে ছেলেদের পোশাক কিনে দিতে পারেননি। এখানে বিনা মূল্যে দুই সন্তানের শীতের কাপড় পেয়েছেন। হুডি পেয়ে ছেলেরা খুশি। তিনি নিজেও উচ্ছ্বসিত।

নিঃস্বার্থ পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুণ নাইম আহমদ। তাঁর বাসা নগরের নবাব রোড এলাকায়। নাইম বলেন, বছর দুয়েক আগে সংগঠনের কার্যক্রম দেখে তাঁর ভালো লেগেছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যেন মূলধারায় যুক্ত হতে পারে, সে জন্য তিনি এ সংগঠনে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছেন।

সংগঠনের সূত্রে জানা গেছে, ২২ ডিসেম্বর তারাপুর চা-বাগানের শ্রমিকদের শিশুসন্তানদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। এর বাইরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের বেদেপল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে সুবিধাবঞ্চিতদের শীতবস্ত্র দেওয়া হবে। চলতি শীত মৌসুমে সংগঠনের হাজারো শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সিলেট এমসি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিঃস্বার্থ পরিবারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘গেল ঈদে নিজেদের পোশাক কেনার সময় টাকা বাঁচিয়ে আমরা সুবিধাবঞ্চিত ও পথশিশুদের জন্য পোশাক কিনে উপহার দিয়েছিলাম। এবারও একইভাবে আমরা টাকা সংগ্রহ করে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। অবশ্য বিত্তবান কয়েকজনও আমাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন।’

সংগঠনের সভাপতি মুক্তাদীর কামালী বলেন, সংগঠনের স্থায়ী-অস্থায়ী কোনো কার্যালয় নেই। পথশিশুদের নিয়ে তাঁদের কাজ, তাই পথে পথেই সংগঠনের জরুরি সভা-সাধারণ সভা হয়। চলতি শীত মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে শীতবস্ত্র আমরা বিতরণ করতে চান। মাদক থেকে যেন পথশিশুরা দূরে থাকে, সে জন্যও কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন