default-image

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে ৯ ও ১০ এপ্রিল ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ভেসে এসেছিল বিশাল আকৃতির দুটি মৃত তিমি মাছ। প্রথমটির ওজন প্রায় ১৫ টন ও দ্বিতীয়টির ওজন ১০ টন। ঘটনার সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও জানা যায়নি কী কারণে তিমি দুটির মৃত্যু হয়েছিল। লকডাউনের কারণে ঢাকায় নমুনা পাঠানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি।

তবে এর আগে বুধবার সকালে সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গভীর পর্যবেক্ষণে তাঁর মনে হয়েছে মৃত তিমি দুটি ‘দম্পতি’ (কাপল)। পুরুষ সঙ্গীর মৃত্যুর শোকে স্ত্রী তিমিটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমি দুটির শরীর পর্যবেক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করেছে আশরাফুলের নেতৃত্বে একটি দল।

নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তিমির শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে নমুনাগুলো সেখানে পাঠানো সম্ভব হয়নি। নমুনাগুলো কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপে মেরিন একাডেমির পিসিআর ল্যাবে সংরক্ষিত আছে। তা ছাড়া তিমির নমুনা পরীক্ষার জন্য ‘প্রাইমার কিট’ প্রয়োজন। কিন্তু কিট দেশে নেই। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। সুতরাং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে তিমির মৃত্যুর কারণ, বালুচরে দেহ পুঁতে ফেলা ও কঙ্কাল সংরক্ষণের জন্য ৯ এপ্রিল রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে পরিবেশ, বন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির কাজ কত দূর, জানতে চাইল কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ আজ বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, লকডাউনের কারণে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তিমি দুটির শরীরে পচন ধরেছিল, ছড়িয়ে পড়ছিল দুর্গন্ধ। তাই নমুনা সংগ্রহের পর সৈকতের বালুচরে তিমি দুটি পুঁতে ফেলা হয়েছে। দুই-তিন মাস পর তিমির কঙ্কালগুলো তুলে সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন