default-image

সিলেটের কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রিড লাইনে আগুন লাগার কারণে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎহীন। কবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি উপজেলা বিদ্যুৎ বিভাগ। এ কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উপজেলাবাসী। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি।

জগন্নাথপুর উপজেলা বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগ ও উপজেলাবাসী সূত্র জানায়, ১৯৮২ সালে ৫০০ গ্রাহক নিয়ে সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড লাইন থেকে ৪১ কিলোমিটার দূর জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু করা হয়। বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা ২৫ হাজার। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রবাসী-অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার অফিস, পাড়া, ব্যাংক-বিমা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাসাবাড়িতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে গ্রাহকেরা।

জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় বিদেশ থেকে আমার আত্মীয়ের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা আজ তুলতে পারিনি।’

বিজ্ঞাপন

জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বাসুদেব বাড়ির বাসিন্দা গৃহিণী মুক্তা বণিক বলেন, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, ঘরের কাজ, ছেলে-মেয়েদের অনলাইনে লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রযুক্তির এই যুগে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা দুঃখজনক।

পৌর এলাকার যাত্রাপাশা গ্রামের কৃষক রজত গোপ বলেন, বোরো চাষাবাদের জন্য বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। জমিতে পানি থাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দুই দিন ধরে পানি নিষ্কাশনের কাজ বিঘ্নিত হয়।

সোনালি ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখার ম্যানেজার আল আমীন রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্রাহকদের সেবা প্রদানে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জেনারেটর চালু করে সেবা প্রদানের চেষ্টা চলছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী আবুল আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, সিলেটের কুমারগাঁও বৈদ্যুতিক গ্রিড লাইন থেকে জগন্নাথপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুমারগাঁও বৈদ্যুতিক গ্রিড লাইনে আগুন লাগার কারণে জগন্নাথপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। লাইন চালু করার চেষ্টা চলছে। আজ লাইন চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য পড়ুন 0