default-image

গাইবান্ধায় অপহৃত ব্যবসায়ী হাসান আলীকে (৪৫) উদ্ধারের পর আওয়ামী লীগ নেতার হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। কর্মকর্তারা হলেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন।

এ নিয়ে গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

তা ছাড়া এ ঘটনায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না মর্মে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজার রহমানকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপার বলেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ১০ এপ্রিলের ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই ওই দুই কর্মকর্তাকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হাসান আলীকে দাদন ব্যবসায়ী মাসুদ রানার হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে ঘটনার দিনই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ। কমিটির কর্মকর্তারা হলেন আহ্বায়ক গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রাহাত গাওহারী, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আবু খায়ের ও পুলিশ পরিদর্শক আবদুল লতিফ মিয়া। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি ১০ দিন পর মঙ্গলবার এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

গাইবান্ধা জেলা শহরের স্টেশন রোডে আফজাল সুজ নামের হাসান আলীর জুতার দোকান ছিল। গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা (৪২) একজন দাদন ব্যবসায়ী। ব্যবসা চলার সময় মাসুদ রানার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা দাদন নেন হাসান আলী। এই টাকা সুদাসলে বর্তমানে ১৯ লাখে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন মাসুদ রানা। সম্প্রতি মাসুদ রানা সুদের টাকার জন্য হাসান আলীকে চাপ দেন। একপর্যায়ে গত ৫ মার্চ সকালে লালমনিরহাটের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে হাসানকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে আসেন মাসুদ রানা। তিনি তাঁকে গাইবান্ধা শহরের খানকা শরিফসংলগ্ন নারায়ণপুর এলাকায় নিজ বাসায় এক মাস আটকে রাখেন।

এরপর টাকা নিয়ে হাসানের সঙ্গে মাসুদ রানার তর্কবিতর্ক হয়। টাকার জন্য তিনি হাসানকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং নানা ধরনের হুমকি দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় (৫ মার্চ) নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বীথি বেগম স্বামীকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসানকে সদর থানায় নিয়ে আসেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান ও এসআই মোশারফ হোসেন। একই দিন রাতে পুলিশ হাসানকে মাসুদ রানার জিম্মায় দেয়। এরপর দলীয় ক্ষমতার দাপটে মাসুদ রানা এক মাস আটকে রেখে হাসানকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। ১০ এপ্রিল সকালে মাসুদ রানার বাড়ি থেকে হাসান আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বীথি বেগম সদর থানায় মাসুদ রানাসহ তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। অপর দুজন হলেন শহরের স্টেশন রোডের জুতা ব্যবসায়ী রুমেল হক ও খলিলুর রহমান ওরফে বাবু মিয়া।

হাসান আলীর স্ত্রী বীথি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘সালিস বৈঠকে আমার কাছে পুরো টাকা ফেরত ও স্ট্যাম্পে সই চান মাসুদ রানা। এতে আমি অস্বীকৃতি জানালে মীমাংসা হয় না। তখন পুলিশ আমার স্বামীকে মাসুদ রানার হাতে তুলে দেন। এরপর থেকে আমার স্বামী মাসুদ রানার বাসায় ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘টাকা নিয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে মাসুদ রানার তর্কবিতর্ক হয়। টাকার জন্য তিনি আমার স্বামীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং নানা ধরনের হুমকি দেন। এসব নির্যাতনের কথা মোবাইল ফোনে জানতে পেরে আমি থানায় অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার স্বামীকে উদ্ধার করে দেয়নি। আমার কাছেও স্বামীকে ফেরত দেয়নি। উল্টো তাকে মাসুদ রানার কাছে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে আমার স্বামী মারা গেছে। তারপর আমার স্বামীকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন