বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার মহাস্থানগড়ে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। মেলার কয়েক দিন আগে থেকেই মহাস্থানগড়সহ আশপাশের এলাকায় উৎসবের ধুম পড়ে যায়। তবে করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর মহাস্থানগড়ের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব বন্ধ ছিল।

মহাস্থানগড় এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক এই উৎসবের গোড়াপত্তন সর্ম্পকে কারও সঠিক ধারণা নেই। তবে বংশপরম্পরায় কয়েক শ বছর ধরে এখানে বার্ষিক এই উৎসব আয়োজন হয়ে আসছে। লোকমুখে শোনা যায়, মহাস্থানগড়ের এই মাজারে বসেই ইংরেজদের হটাতে ফকির বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন ফকির মজনু শাহ। একপর্যায়ে তিনি বিজয়ীও হয়েছিলেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফকিরি বিদ্রোহকে স্মরণীয় করে রাখতেই বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার এই উৎসব আয়োজন হয়ে আসছে। এ কারণেই উৎসবে শত শত ফকির-সন্ন্যাসীদের আগমন ঘটে। এটা আসলে ফকির-সন্ন্যাসীদের মেলা।

default-image

স্থানীয় ব্যবসায়ী আইফল ইসলাম বলেন, এই উৎসব ঘিরে প্রচুর পরিমাণে কটকটি বেচাকেনা হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বছরের একটি দিনে ভালো ব্যবসার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তবে করোনার কারণে গত দুই বছর উৎসব আয়োজিত না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হাতগুটিয়ে বসে ছিলেন। এ ছাড়া গত উৎসবের সময় মাদকসেবনের মতো কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ড উৎসবের ঐতিহ্যকে কিছুটা ম্লান করেছিল। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় এবার এই উৎসব আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বগুড়ার সুকুমার বাউল বলেন, এই উৎসব হলো সাধু-সন্ন্যাসীদের মিলনমেলা। মহাস্থানগড়ের এই উৎসবকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফকির–বাউলেরা গুরুকে ভক্তি জানাতে আর আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য বছরে এক দিন এখানে সমবেত হন। কিন্তু বিগত সময়ে বাউল-সন্ন্যাসীদের হয়রানিসহ নানা কারণে এখানে লোকসমাগম আগের চেয়ে কমেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন