ফুফাতো ভাই নুরুল আমিন বলেন, তিনি নাটোরের দিকে যাওয়ার পথে জানতে পারেন রবিউলকে আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হচ্ছে। পরে তিনি সরাসরি হাসপাতালে চলে আসেন। দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় রবিউলের বাঁ হাতটি কেটে পড়ে যায়। পরে তাঁকে নাটোরের বনপাড়ার আমেনা ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাজশাহীতে আনার পর তাঁর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

রবিউলের ছোট ভাই মো. হানিফ বলেন, তাঁরা দুই ভাই। তাঁর ভাইয়ের আরিফ হোসেন (৫) ও আবদুল বারী (৩) নামে দুই ছেলে আছে। ভাই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

রবিউলের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে তাঁর স্বামী বের হয়ে যান। রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। আজ শনিবার দুপুরে ফেরার কথা ছিল। তার আগেই স্বামীর দুর্ঘটনার খবর শুনতে পান। এখন কীভাবে চলবেন, স্বামীর চিকিৎসা কীভাবে করাবেন, ছেলেদের কীভাবে বড় করবেন; এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মহিষভাঙ্গা এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ছয়জন এবং পরে স্থানীয় হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঢাকা থেকে ন্যাশনাল পরিবহনের একটি বাস রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। আজ বেলা ১১টার দিকে বাসটি মহিষভাঙ্গা এলাকার গাজী অটোরাইস মিলের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহনের বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সিয়াম পরিবহনের বাসটি ছিটকে গিয়ে রাইস মিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ন্যাশনাল পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়ক থেকে কিছুটা নেমে যায়। দুর্ঘটনায় ন্যাশনাল পরিবহনের চার যাত্রী ও সিয়াম পরিবহনের দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে একজন মারা যান। উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেছে। আহত হয়েছেন উভয় বাসের অন্তত ২৫ জন যাত্রী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন