বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন আবু সামা, মিজান মাতুব্বর, জহিরুল ইসলাম হাওলাদার ও তাঁর বড় ভাই মইদুল ইসলাম হাওলাদার ও ইলিয়াছ। তাঁদের মধ্যে ইলিয়াস পলাতক। মো. আবদুল হান্নান ওরফে হান্নান মেম্বার নামের এক আসামি বেকসুর খালাস পান।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, দুই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে দুবার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ সাজা গ্রেপ্তারের দিন থেকে কার্যকর হবে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার একটি বাড়িতে ঢুকে একদল ডাকাত দুই নারীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরদিন ওই দুই নারী মামলা করতে গেলে ঠিকানা জটিলতার কথা বলে মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। পরে তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে পাঁচ দিন পর মামলা নেয় পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে।

কর্ণফুলী থানা–পুলিশের এই বিতর্কিত ভূমিকার মধ্যেই পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর মামলার তদন্তভার যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হাতে। দায়িত্ব পাওয়ার দিনই মিজান মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পিবিআই। এরপর ওই রাতেই আবু সামাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুজনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেই খুলে যায় মামলার জট। একে একে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার নাম-পরিচয় প্রকাশিত হয়। পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জবানবন্দিতে উঠে আসে, পেশাদার মুঠোফোন চোর আবু সামার পরিকল্পনায় ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন তাঁরা, জহিরুল বাইরে ছিল। মইদুলসহ বাকিরা ভেতরে গিয়েছিলেন। মইদুল, ইলিয়াছ ও মিজান ধর্ষণে জড়িত ছিলেন। জহিরুল বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। আর আবু সামা ও হান্নান ডাকাতিতে অংশ নিয়েছিলেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিআই তৎকালীন পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ছয়জন পেশাদার ডাকাত ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিরা একেকজন পেশাদার ডাকাত। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে চুরি-ডাকাতি করেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় যে বাড়িতে তাঁরা ঢুকেছিলেন সেখানেও তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি করা। কিন্তু ডাকাতির পাশাপাশি তাঁরা ধর্ষণের মতো অপকর্মও করে বসেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন