বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সোমবার সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটি তাঁরা জেনেছেন ফেসবুকের মাধ্যমে। ওসি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এ রকম ভিডিও পেয়ে আমরা সংগ্রহ করে দেখেছি। যে চার ব্যক্তি ওই নারীকে হেনস্তা করেছেন, তাঁদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল হেনস্তাকারীদের আটক করতে সোমবার রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়েছে।’

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ থেকে ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা যে ভিডিওগুলো সংগ্রহ করেছি, সেখানে শুধু ধস্তাধস্তি ও আপত্তিকর কিছু অঙ্গভঙ্গি দেখা গেছে। তবে ধর্ষণের অভিযোগও শোনা গেছে। এ বিষয়ে খবর নেওয়া হচ্ছে।’

ওই নারীর দুই আত্মীয় ও তিন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। নারীর বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। তাঁর স্বামী নেই। চার মেয়ে ও দুই ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই ছেলে দুবাইপ্রবাসী। বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। ২৯ আগস্ট বাড়িটি তালাবদ্ধ করে তিনি হঠাৎ প্রতিবেশী কাউকে না জানিয়ে পাশের গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। হঠাৎ বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণ জানতে গিয়ে আত্মীয়রা ওই নারীর মুখে ঘটনাটি শোনেন। এরপর প্রবাস থেকে তাঁর দুই ছেলে তাঁদের জানিয়েছেন, ভিডিওটি তাঁদের দুই ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছেন এক ব্যক্তি।

নারীর আত্মীয় এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, প্রবাসে থাকা দুই ছেলে উদ্বিগ্ন হয়ে জানিয়েছেন, ভিডিও ধারণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু টাকাপয়সা দিয়ে সম্পূর্ণ ভিডিও উদ্ধার করার জন্য। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তাঁরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে গত বুধবার রাতে একটি সালিস বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ভিডিও ধারণকারীদের চার লাখ টাকা দেওয়ার ফয়সালা করে অগ্রিম এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। গত শনিবার এ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। টাকা না দেওয়ার এক দিন পর ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার খবর পান তাঁরা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ফেসবুকে সব ছাড়ি দিছে। আমরা অখন কিতা করতাম, ভাবতা পাররাম না। বিদেশে দুই ভাই দিশেহারা অবস্থায় আছে। আর তারার মায়ের অবস্থা তো বোঝবার পাররা, তাই একেবারে কাহিল অইয়া বাপের বাড়িত আশ্রয় নিছইন।’

কানাইঘাট থানার উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে বলে ওই এলাকার কয়েক বাসিন্দা জানিয়েছেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে মুঠোফোনে ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ভিডিও ধারণকারী চারজনকে শনাক্ত করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটি চারজনকে পুলিশে সোপর্দ করবেন। এ জন্য সেখানে অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন