লিখিত বক্তৃতায় শামসুল ইসলাম বলেন, তাঁরা (শামীমা আক্তার খানম, হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং হাবিবুর রহমান হাবিব) সিলেট জেলা কৃষক লীগে বিভাজন ও সাংগঠনিক সংকট সৃষ্টির জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছেন। সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অগঠনতান্ত্রিক ও মনগড়া কার্যক্রম শুরু করেছেন তাঁরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা কমিটি। তবে জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সম্মেলনের ব্যানার ও পোস্টার তৈরি করা হয়েছে।

তাঁরা (শামীমা আক্তার খানম, হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং হাবিবুর রহমান হাবিব) সিলেট জেলা কৃষক লীগে বিভাজন ও সাংগঠনিক সংকট সৃষ্টির জন্য অপতৎপরতা শুরু করেছেন।
শামসুল ইসলাম

শামসুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনের পোস্টারে উদ্বোধক হিসেবে জেলা কমিটির সভাপতি শাহ নিজাম উদ্দিন, প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সাংসদ হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম দেওয়া হলেও জেলা কমিটির আর কারও নাম দেওয়া হয়নি। উদ্বোধক হিসেবে জেলা কমিটির সভাপতির নাম থাকলেও তিনি (সভাপতি) কিছুই জানেন না। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃস্থানীয়দের জানানো হয়েছে। এ বিভাজন সৃষ্টির পেছনে সাংসদ হাবিবুর রহমান ও শামীমা আক্তার খানম এবং হাবিবুর রহমান মোল্লার যোগসাজশ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

default-image

সংবাদ সম্মেলনে জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদুর রব, প্রচার সম্পাদক আবুল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খসরু নোমান, সিলেট সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কাচা মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ হাবিবুর রহমানের প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষক লীগের সম্মেলন বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। বরং শামসুল ইসলামই আমাকে এ বিষয়টি প্রথমে অবহিত করেছেন। কেন তিনি (শামসুল ইসলাম) এমন অভিযোগ করলেন, তা বলতে পারব না।’

সাংসদ শামীমা আক্তার খানম বলেন, ‘তাঁর (শামসুল ইসলাম) কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানাতে পারতেন। এভাবে সংবাদ সম্মেলন করাটা গঠনতন্ত্র বহির্ভূত। এ ছাড়া তিনি সংবাদ সম্মেলনে কী বলেছেন সেসব শুনিনি। না শুনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান মোল্লা সাংগঠনিক স্থবিরতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কৃষক লীগের সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে রাত ৮টা ৫৪ মিনিটে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কমিটি দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। সংগঠনকে গতিশীল করতে কেন্দ্রের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সংশ্লিষ্টরা গঠনতন্ত্রের আলোকে সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করেছে। কেউ যদি এ নিয়ে অভিযোগ করেন সেটা সঠিক নয়।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন