শহরের শহীদ মিনার সড়কে বরাদ্দ পাওয়া পুরোনো জেলখানার জমিতে প্রতিষ্ঠান দুটির ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গতকাল সেখানে ‘পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান ভবন নির্মাণ কাজের লে-আউট প্রদান করেন’ শীর্ষক সাইনবোর্ড দেওয়া হয়। তবে কাজ শুরুর অনুষ্ঠানে মেয়র উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর ভবন দুটি নির্মাণ না করে ‘এক কোটি টাকা আত্মসাতের’ দায়ে বাগেরহাটের পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিমের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । ভবন নির্মাণের বিষয়ে গতকাল রাত পৌনে আটটার দিকে মেয়র খান হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনায় (বাগেরহাট) করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটে প্রকল্প ও বাগেরহাট পৌরসভার উন্নয়নকাজে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা করে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বাগেরহাট ডায়াবেটিস হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন ও বাগেরহাট আবাহনী ক্লাবের কমপ্লেক্স ভবন (প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ) নির্মাণে। মন্ত্রণালয় থেকে ওই টাকা বরাদ্দের সময় শর্ত ছিল, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। যথাসময়ে কাজের অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট বিভাগে দায়ের করতে হবে এবং অব্যয়িত অর্থ ২০১৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। ২০১৫ সালের ২২ জুন বাগেরহাট পৌরসভার তহবিলে ওই জমাও উত্তোলন করা হয়। তবে ভবন নির্মাণ করা হয়নি।

এ ছাড়া পৌর কর্মচারীদের চাকরি বিধিমালা ভঙ্গ করে এবং নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের বেতন–ভাতা বাবদ রাষ্ট্রের ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৫৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মেয়র ও নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নামে আরও একটি মামলা করে দুদক।

বাগেরহাট পৌরসভা সূত্রে জানায় যায়, আবাহনী ক্লাব ও ডায়াবেটিস হাসপাতালের দুটি ভবনের নির্মাণের জন্য চলতি বছরের অক্টোবরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ পেয়েছেন বাগেরহাট পৌর শহরের খারদ্বার এলাকার ঠিকাদার নজরুল ইসলাম। ৫০ লাখ করে মোট ১ কোটি টাকা ব্যয়ে আবাহনী ক্লাবের ৪ তলা ফাউন্ডেশনের ১ তলা এবং ডায়াবেটিস হাসপাতালের ৬ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবনের ১ তলা নির্মাণ করা হবে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কান্তি গুহ বলেন, বাগেরহাট পৌরসভার তত্ত্বাবধানে প্রাথমিকভাবে এ কাজ শুরু করা হয়েছে। জমিপ্রাপ্তিতে কাঙ্ক্ষিত সংস্থাগুলোর বিলম্ব ও কোভিড পরিস্থিতির কারণে এ কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন