বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বন বিভাগ নির্ধারিত পাঁচটি নৌপথ হলো সাতক্ষীরার বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী-বল নদ-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদ হয়ে দুবলার চর; খুলনার কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া শিবসা, শিবসা ও মরজাত নদ হয়ে দুবলার চর; নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদ হয়ে দুবলার চর; বাগেরহাটের ঢাংমারী অথবা চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর এবং বগী-বলেশ্বর-সুপতি স্টেশন-কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, পূর্ণিমা পুণ্যস্নানে কেবল তিন দিনের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুমতি দেওয়া হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্কবিহীন কোনো তীর্থযাত্রীকে পুণ্যস্নানস্থলে যেতে দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ রাখা হবে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, তীর্থযাত্রীদের ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর—এই তিন দিনের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে এবং প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। যাত্রীরা নির্ধারিত রুটের পছন্দমতো একটিমাত্র পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন এবং দিনের বেলায় চলাচল করতে পারবেন। বন বিভাগের চেকিং পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও নৌকা, লঞ্চ বা ট্রলার থামানো যাবে না। প্রতিটি ট্রলারের গায়ে রং দিয়ে বিএলসি অথবা সিরিয়াল নম্বর লিখতে হবে। রাসপূর্ণিমায় আগত পুণ্যার্থীদের সুন্দরবনে প্রবেশের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নেওয়া সনদপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

পরিবেশ দূষণ করে এমন বস্তু, শব্দযন্ত্র বাজানো, পটকা ও বাজি ফোটানো, বিস্ফোরক দ্রব্য, দেশীয় যেকোনো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, হরিণ মারার ফাঁদ, কুড়াল, দড়ি বহন করা থেকে যাত্রীদের বিরত থাকতে হবে। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অবস্থানের সময় টোকেন ও টিকিট নিজের সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি লঞ্চ, নৌকা ও ট্রলারকে আলোর কোলে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে আবশ্যিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে।

প্রতিবছর সুন্দরবনের দুবলার চরে (আলোর কোলে) বেশ জাঁকজমকভাবে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব (রাসমেলা) অনুষ্ঠিত হয়। তবে মেলার আয়োজন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও করোনার কারণে গত দুই বছর মেলা না হলেও এ বছর থেকে স্থায়ীভাবে মেলা বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাস উৎসব বন্ধ হলেও ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্ধারিত দিনে ওই স্থানে রাসপূজা ও পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেখানে কোনো পর্যটক বা অন্য ধর্মের মানুষ যেতে পারবেন না।

প্রতিবছর রাসমেলা উপলক্ষে কয়েক হাজার মানুষ সুন্দরবনের দুবলার চরে যান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই মেলায় অংশ নেন। উৎসবে যুক্ত থাকতেন হিন্দু-মুসলমান থেকে শুরু করে সব সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে গত কয়েক বছর রাসমেলা সীমিত করার পরিকল্পনা করছিল বন বিভাগ। গত বছর থেকে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়। তবে স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সরকারিভাবে এবারই প্রথম নির্দেশনা দেওয়া হলো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন