কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া চানপুর এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আজগ মিয়া (৪৫) মুঠোফোনে সকালে বলেন, ‘আইজ এক হপ্তা পর বউ–বাচ্চা লইয়া বাড়িত আইছি। অহন উডানে পানি, ঘরে কাদা। সকালে রইদ উঠায় ভিজা কাপড়চোপড় শুকাইতে দিছি। নিজের বাড়িঘরে আইয়া বালা লাগতাছে।’

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত বলেন, ‘গত শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় পানি অনেকটাই কমেছে। তবে এখনো উব্দাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটারের ওপরে আছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ মিটার। ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টেও বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল থেকে কয়েকজন বাড়িতে ফিরলেও এখনো ৩৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৫ হাজার ১৭৩ জন পুরুষ, ৪৯ হাজার ৩১১ জন নারী, ১৮ হাজার ২৩২ জন শিশু ও ৫৯৬ জন প্রতিবন্ধী আছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২০ হাজার গবাদিপশুও আছে। পানিবন্দী রয়েছে আরও প্রায় ৮ লাখ মানুষ। গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার রাত পযন্ত দুর্গাপুর, মোহনগঞ্জ, মদন ও কেন্দুয়ায় পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৫৯৩ মেট্রিক টন জিআর চাল, নগদ ২৩ লাখ টাকা ও ৪ হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে ২৬৩ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ টাকা ও ৮ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের কোনো সংকট নেই। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন