পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত প্রথম আলোকে বলেন, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে বন্যার পানি কিছুটা কমছে, তবে তা ধীরগতিতে।

সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে পানি ৫৭২ সেন্টিমিটার নিচে আছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮৯ মিটার। দুর্গাপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ১১ মিটার, সেখানেও পানি ২৭৪ সেন্টিমিটার নিচে আছে।

মোহনলাল আরও বলেন, পূর্বধলার জারিয়া পয়েন্টে কংস নদের পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ও ধনু নদের পানি খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, ভারী বৃষ্টি না হলে বন্যার পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।

মোহনলাল জানান, বন্যার পানি খালিয়াজুরির বিভিন্ন হাওর দিয়ে ইটনা, মিঠামইন ও ভৈরব হয়ে মেঘনা নদীতে চলে যাবে।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব উল আহসান এবং কলমাকান্দার ইউএনও আবুল হাসেম জানান, আজ সকাল থেকে দুটি উপজেলায় রোদের দেখা মিলেছে। পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। দুটি উপজেলায় ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৬ হাজার ৪৭০ জন মানুষ আছেন। এর মধ্যে কলমাকান্দায় ৩৬টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৩০০ মানুষ আছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, বারহাট্টাসহ সাতটি উপজেলায় আকস্মিক বন্যা হয়। এর মধ্যে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পানিবন্দী হয়ে পড়েন প্রায় আট লাখ মানুষ। জেলার সঙ্গে কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জের সড়কপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যায় পুকুরগুলো থেকে প্রায় ১৩২ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘জেলার ২৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে ১৯ হাজার মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন। বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলাসহ মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় এরই মধ্যে ২ হাজার ৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আজ সকাল থেকে খালিয়াজুরিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আটকে পড়া বন্যার্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন