প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা বলেন, বর্তমানে আজিমুল হাঁটতে পারলেও সেই হাঁটা স্বাভাবিক নয়। দুই পায়ের এক পায়ে কিছুটা শক্তি রয়েছে, আরেক পায়ে শক্তি একটু কম। এ অবস্থায় হেলেদুলে ও কেঁপে কেঁপে চলাফেরা করতে হচ্ছে। কারও সাহায্য ছাড়া চলতে গেলে কিছু দূর গিয়ে থামতে হয়। এভাবে চলতে গিয়ে প্রায়ই সঠিক সময়ে কলেজে পৌঁছাতে পারেন না আজিমুল হক।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আজিমুল হক সদর উপজেলার লোহাকুচি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জেএসসিতে জিপিএ ২ দশমিক ২১ পেয়ে পাস করেন। এরপর ২০২১ সালে লালমনিরহাট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) থেকে আর্কিটেকচারাল ড্রাফটিং উইথ অটোক্যাড ট্রেড বিষয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৪ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন।

আজিমুল হক (১৮) বলেন, তিনি লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হতে চান। সংসারের বোঝা নয়, সম্পদ হতে চান। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। ব্যাটারিচালিত একটি ট্রাই সাইকেল পেলে ভালো হতো। রিকশাচালক বাবার পক্ষে তা কিনে দেওয়া সম্ভব নয়। আবার তাঁকে রিকশায় করে কলেজে আনা–নেওয়া করলে বাবার উপার্জনও কমে যাবে।

মিন্টু মিয়া বলেন, আজিমুলের চিকিৎসায় সাধ্যমতো খরচ করেছেন। এখন অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারে না। ব্যাটারিচালিত একটি ট্রাই সাইকেল পেলে ভালো হতো। সমাজের দানশীল কোনো মানুষ সহায়তা করলে উপকৃত হতেন।

মিন্টু মিয়ার নিজের কোনো জমি নেই। অন্যের জমিতে বাড়ি করে থাকেন। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, ছোট মেয়ে মনিরা আখতার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। আজিমুল কলেজে পড়েন।

ঢাকনাই টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুল ইসলাম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী কলেজছাত্র আজিমুলের হাঁটাচলায় সমস্যা রয়েছে। পড়াশোনায় তাঁর আগ্রহ আছে। তিনি লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হতে চান, পরিবারকে সাহায্য–সহযোগিতা করতে চান। এমন ছাত্রের জন্য সমাজের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে ভালো হতো।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন