বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীতে জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় বাজার তদারকির কাজটি করে থাকে। এই কার্যালয়ে একজন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (মার্কেটিং অফিসার), একজন পরিদর্শক, একজন মাঠ কর্মকর্তা, একজন সহকারী মাঠ কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী রয়েছেন। অফিস সহকারীর পদটি এখনো শূন্য।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (মার্কেটিং অফিসার) মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা উপজেলাগুলোতে সব সময় অভিযানে যেতে পারেন না। একটি কার্যালয় থেকে আটটি উপজেলায় অভিযানে যাওয়া সম্ভব হয় না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কোনো অভিযানে ডাকলে তিনি যান। তবে তাঁদের পরিদর্শক সপ্তাহে এক দিন করে একটি বাজারের ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য যান।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার দেশের উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র। এখান থেকে পাশের জেলা ও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ করা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে বানেশ্বর বাজারের চারটি গুদাম ও একটি ট্রাক থেকে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৬৮৪ লিটার সয়াবিন ও ৬৭ হাজার ৯৩২ লিটার পাম তেল রয়েছে।

এর মধ্যে বানেশ্বর বাজারের সরকার অ্যান্ড সন্স, ইন্তাজ স্টোর, মেসার্স পাল অ্যান্ড ব্রাদার্স ও রিমা স্টোর ও চাঁপাইনাবগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার জন্য বোঝাই করা একটি ট্রাক থেকে এই পরিমাণ তেল জব্দ করা হয়। তেল মজুতের অভিযোগ বানেশ্বর বাজারের ব্যবসায়ী বিকাশ কৃষ্ণ সরকার, রাজীব সাহা, এমদাদুল হক, শৈলেন্দ্রনাথ সরকার ও ট্রাকচালক মোহাম্মদ লিটনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী জানান, এই মামলায় গতকাল বুধবার দুপুরে পাঁচজনকেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, নিয়ম অনুযায়ী পাইকারি বিক্রেতারা সর্বোচ্চ ৩০ মেট্রিক টন তেল সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত রাখতে পারবেন। তবে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, মজুত রাখতে হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের একটি লাইসেন্স থাকতে হয়। বানেশ্বরের এই ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।

পুঠিয়ায় কত দিন আগে অভিযানে গেছেন—জানতে চাইলে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত ৯ এপ্রিল ইউএনও অভিযান চালালে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর আর যাওয়া হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে গোদাগাড়ীর প্রেমতলী বাজারের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার ৪০০ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। এর অর্ধেকটাই সয়াবিন তেল। বাকিটা পাম তেল। দোকানমালিক মাজদার আলীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত সোমবার বাগমারা উপজেলার শহিদুল ইসলামের (৪৫) গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ১৯ হাজার ৪০০ লিটার সয়াবিন ও ১ হাজার ২০ লিটার শর্ষের তেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় শহিদুলকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ভাই রফিকুল ইসলামের গুদাম থেকে মঙ্গলবার রাতে আরও ৬ হাজার ৩২৪ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন সবর্শেষ দেড় বছর আগে বাগমারা উপজেলায় অভিযানে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অচিরেই প্রতিটি উপজেলায় তাঁদের কার্যালয় করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন