default-image

রংপুরে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের ঘটনায় নগরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে নিচু এলাকায় পানি না সরায় দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। আর দুর্গত অভাবী মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাঁদের দুই বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আকাশে ঘন কালো মেঘ করে বৃষ্টি নামলে জনমনে নতুন করে ভীতি ও শঙ্কা দেখা দেয়। তবে বেলা তিনটায় আকাশ পরিষ্কার হলে স্বস্তি ফিরে আসে।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নিউ জুম্মাপাড়া, মারুয়াপাট্টি, মুলাটোলের নিচু অংশ, নীলকণ্ঠ, বাবু খাঁ, গণেশপুর, আলমনগর কলোনি, বৈরাগীপাড়া এলাকার সড়কগুলোর কোথাও কোথাও পানি জমে আছে। নিচু এলাকার কোনো কোনো বাড়িতে প্রায় হাঁটুসমান পানি। এসব এলাকায় নর্দমা না থাকা, আবার কোনো এলাকায় নর্দমা থেকে বাড়িঘর ও সড়ক নিচু হওয়ার কারণে পানি সরছে না।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিউ জুম্মাপাড়ার দোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক কষ্ট করি আছি। মানুষজন শুকনা খাবার ও খিচুড়ি দেয়। এসব খায়া আপাতত জীবন চলছে।’

এদিকে নিউ জুম্মাপাড়া এলাকায় দুর্গত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজন ও রাজনীতিকেরা। তাঁদের মধ্যে রংপুর নগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসীর বলেন, ‘আমাদের নিজের পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়লেও যাঁরা খুব কষ্টে আছেন, তাঁদের জন্য শুকনা খাবার পৌঁছে দিয়েছি।’

নিউ জুম্মাপাড়ার সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠক মকসুদার রহমান তাঁর বাড়ির পাশের নিচু এলাকার দুর্গত মানুষের মধ্যে খিচুড়ি রান্না করে পৌঁছে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু নিজে ভালো থাকলেই চলবে না। আশপাশের সব মানুষের পাশেও থাকতে হবে। ফলে তাঁরা সব ভাই মিলে খিচুড়ি সরবরাহ করছেন।

নগরের মুলাটোলপাড়ার নিচু এলাকায় এখনো পানি আছে। ঘর থেকে পানি সরে গেলেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এমন দুর্ভোগের মধ্যেও মানুষ ঘরে উঠছেন। কাপড়, আসবাব বাইরে যে রোদে শুকাবেন, সেই উপায়ও নেই। সকালের রোদ দেখে মানুষের স্বস্তি এলেও বেলা সাড়ে ১১টায় আকাশে ঘন মেঘ করে বৃষ্টি নামলে মানুষের মন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে। মুন্সিপাড়া কেরামতিয়া স্কুলে আশ্রয় নেওয়া একজন গৃহিণী বলেন, ‘ঘরদুয়ার ছাড়ি স্কুলোত উঠছি। হামারগুলার এত কষ্ট। তা কেমন করি বুঝাই।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান বলেন, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ১১২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এখনো কাজ করে চলেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া ও দুর্গত মানুষের জন্য দুই বেলা রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

দুর্গত মানুষের জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান।

গত শনিবার রাতে স্মরণকালের সবচেয়ে ভারী বর্ষণে রংপুর নগর পানিতে তলিয়ে যায়, যা এই নগর জনপদের মানুষ আগে কখনো দেখেনি। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ৭০ বছরের মধ্যে রংপুরে ৪৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে রেকর্ড হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন