আজ শনিবার সংগঠনটির উদ্যোগে মনিরুজ্জামানের সহায়তায় ২২৩টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারকে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। ইকরচালী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০টায় এসব ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে ১ কেজি আতপ চাল, ৫ কেজি সেদ্ধ চাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি ছোলা বুট, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১০০ গ্রাম মরিচ, ৫০০ গ্রাম লবণ, ১ কেজি সেমাই, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি গুড়, দুটি আপেল, ২৫০ গ্রাম খেজুর, ২৫০ গ্রাম মুড়ি, সোনালি মুরগিসহ একটি প্যাকেজ দেওয়া হয়।

খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে তা বহন করতে পারছিলেন না মাটিয়ালপাড়া সেচ ক্যানেলের ধারে ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, ‘বাবা রোজার মাসটা কষ্টে গেলো। ঘরোত খাবার আছলো না। পাশের বাড়িত য্যায়া মাঝেমধ্যে খাছুন। আর কয়দিন পর ঈদ, খুব চিন্তায় আছনু ঈদোত কী খাইম। কিন্তু তোমরা ইগল্যা ডাকে আনি মোক মুরগি আর চাল, ডাল ইফতার দিনেন। এইগ্যা দিয়া মোর ১০ দিন চলি যাইবে।’

ঈদ উপহার পেয়ে দুই হাত তুলে মাঠেই দোয়া করেন বৃদ্ধ অলিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘বাবা, ভাঙা খুপরিত ছাওয়া নিয়া খুব কষ্টে আছনু। এ্যালা নয়া ঘরোত থাকোং। আইজ ডাকে আনি চাল-ডাল, মুরগি ইফতার আর সেমাই দিলে। ঈদের দিন তাক রান্দি শান্তিমতো খাইম। নয়া ঘর, খাবার সউগ এই সংগঠন থাকিয়া পানু। আল্লাহ ওমার ভালো করবে।’

ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না জুম্মাপাড়া গ্রামের মহুবোন বেওয়া। ভারী বস্তা বহন করতে না পেরে মাঠেই খুলে দেখছিলেন ভেতরে কী আছে। বস্তার মুখ খুলে নাড়া দিতেই চোখেমুখে হাসির ঝিলিক। মহুবোন বেওয়া বলেন, ‘নয়া কইনা (বউ) যখন আছনু। তখন ঈদোত শ্বশুরবাড়িত বাপ এমতোন করি সওদা দিছলো। আইজ তোমরা দিনে। মেলা ওজন ভাসারে পাওছুন না। এই খাবার মোর ঈদ বাদেও ১০ দিন যাইবে। কয়টা দিন পায়ের ব্যথা কমবে, ভিক্ষা করির নাগবে না।’

ভ্যানে করে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসছিলেন ডাংগীরহাট সরকারপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক সোনা মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগোত দুই বেলা খাবারে পাছনু না। এ্যালা এই ছাওয়াগুলার কিনি দেওয়া ভ্যান চালে প্রত্যেক দিন পাঁচ-ছয় শ টাকা কামাই করুছুং। সংসার চালার পরেও এক-দেড় শ টাকা জমা করুছুং। মোর মতোন গরিব মাইনষোক খাবার দিবে শুনি ছুটি আলছুন। মোর ভ্যানগাড়ি চাল ওবি (তুলি) সহযোগিতা করুছুং। মনটাত খুব শান্তি পাওছুন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোরছালিন ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘মনিরুজ্জামান স্যারের তুলনা হয় না। দরিদ্র মানুষের জন্য অসম্ভব দরদ তাঁর। তিনি আমাকে পড়ার খরচ দিচ্ছেন। আজ তাঁর টাকায় দুস্থ মানুষদের ঈদের উপহার হিসেবে খাদ্যসামগ্রী দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন