স্থানীয় লোকজন ও সুবিধাভোগীরা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভৈরবপাশা ইউনিয়নে ২ হাজার ৩৬৬ দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির জন্য ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রত্যেককে এক থেকে দেড় কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়। ওই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, ওজনে কারচুপি, ভুয়া নাম দেখিয়ে চাল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। এমনকি চাল বিতরণের সময় তদারকির জন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, শনিবার সকালে প্রায় এক মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল স্থানীয় তিনজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সুবিধাভোগী জানান, শনিবার সকালে প্রায় এক মেট্রিক টন ভিজিএফের চাল স্থানীয় তিনজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। রাতে ওই চালের মধ্যে ১৪ বস্তা সরানোর সময় স্থানীয় জনতা তা আটক করে পুলিশে খবর দেন।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ভৈরবপাশা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয়। সরকার ঘোষিত প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও চাল দেওয়া হয়েছে ৯ কেজির কম।

ভৈরবপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হক বলেন, ‘চালের বস্তাগুলো ইউপির দ্বিতীয় গুদামে রাখা হয়েছিল। সচিবের কাছে ছিল ওই গুদামের চাবি। কীভাবে চাল পরিষদের বাইরে গেল সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ তিনি ভিজিএফের এক মেট্রিক টন চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইউপি সচিব মিঠুন সিকদার ভিজিএফের চাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। গুদামের চাবিও তাঁর কাছে নেই।
নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি জানান, ঘটনার পর  চৌকিদার আয়নাল হক ও ওই চালের ক্রেতা ব্যবসায়ী ইউসুফ পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হবে। উদ্ধার করা ১৪ বস্তা (১৭ দশমিক ৫ মণ) চাল থানা হেফাজতে আছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন