বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চয়নের বাবা নিতাই তালুকদার বলেন, স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। অভাব–অনটনের সংসারে ছেলের চিকিৎসা ও পড়ালেখা ঠিকমতো করাতে পারছেন না। ছেলেমেয়েরা নিজেদের প্রচেষ্টায় পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে।

একবার কোনো কিছু শুনলে চয়ন মুখস্থ করে ফেলে বলে জানালেন তাঁর বোন বৃষ্টি তালুকদার। তিনি বলেন, ‘চয়নের পড়াশোনার আগ্রহের কারণে আমাকেও পড়তে হয়। ভাইবোন একসঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি, ভালো লাগছে। চয়ন ও আমি সিলেটে অনার্স পড়তে চাই।’

দুই চোখে আলো না থাকায় ছেলেকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন মা মিনতি রানী তালুকদার। তিনি বলেন, ‘চয়নের মানসিক শক্তি আমাদের দুশ্চিন্তা ক্রমশ কমিয়ে দিয়েছে। সে পড়ালেখা করে নিজে কিছু করতে পারলে আমরা শান্তি পাব।’

চয়নের বন্ধু শ্রুতলেখক মাজহারুল তালুকদার বলেন, চয়ন পড়াশোনার পাশাপাশি গানবাজনা ও খেলাধুলা করতে পারেন। তাঁর চোখে আলো না থাকলে মনের আলোয় আলোকিত। স্পষ্ট করে বলে দেন, আর তিনি শুধু শোনা কথা লিখে দিচ্ছেন। এতে তাঁদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন চয়ন তালুকদার। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে তাঁর। ২০১৯ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি ‘একবার শুনলেই পড়া মুখস্থ’ শিরোনামে প্রথম আলোতে চয়ন তালুকদারকে নিয়ে একটি সংবাদ ছাপা হয়।
জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চয়নকে শুরু থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতলেখকের অনুমোদন এনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। চয়ন এগিয়ে যাবেন, এ বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন