বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানায়, ১৯৯৯ সালে স্কুলশিক্ষক মনিরুল ইসলাম সরকার ক্যানসারে মারা যান। প্রয়াত মনিরুল ইসলাম সরকারের দুই মেয়ে শারমিন আক্তার ও তানজিনা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম কুমিল্লায় ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট ছেলে মারুফুল ইসলাম কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাস করে গাজীপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করছেন। ওই বাড়িতে মাজেদা বেগম একাই ছিলেন।

সোমবার রাতে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মাজেদা বেগম। মঙ্গলবার সকাল নয়টায় ওই বাড়িতে গাছের ডাল কাটতে যান প্রতিবেশী হান্নান সরকার। এ সময় তিনি ঘরের মেঝেতে মাজেদা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ বিষয়ে হান্নান সরকার বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল নয়টায় মাজেদা বেগমদের বাড়ির গাছের ডালপালা কেটে পরিষ্কার করার জন্য আসি। বাড়ির প্রধান গেট খোলা দেখে বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাবিকে (মাজেদা) ডাকতে থাকি। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের সামনে গিয়ে দেখি, ঘরের দরজা খোলা। দরজার পর্দা টেনে দেখি, মেজেতে ভাবি পড়ে আছেন। তাঁর মাথা উত্তর দিকে ও পা দক্ষিণ দিকে। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ধাক্কা দিয়ে দেখি, শরীর ঠান্ডা ও শক্ত। মাথার পাশে কাদামাখা একটি বালিশ পড়ে আছে। তাঁর দুই পা ওড়না দিয়ে বাঁধা। তখন আমি চিত্কার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। দুপুর ১২টায় দেবীদ্বার থানা থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) ইখতিয়ার আহমেদ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।’

পূর্ব ফতেহাবাদ গ্রামের অন্তত পাঁচ ব্যক্তি বলেন, ওই এলাকায় মাদকসেবীদের উত্পাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাজেদা বেগমের স্বর্ণ নেওয়ার জন্য তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

মাজেদার ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। আমি খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন