বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের পরিদর্শক আবু বকর ছিদ্দিক, গাড়িচালক মো. রফিকুল ইসলাম, সিপাহি মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উত্তম বরণ দেবনাথ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবুল কাসেম ও সিপাহি মিঠুন চন্দ্র রবিদাস মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি নিয়ে জাফরগঞ্জ বাজারে আসেন। পরে তাঁরা জাফরগঞ্জ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন গোদারাঘাট মীরবাড়ির প্রয়াত বজলুর রহমানের ছেলে মো. রাসেল ইসলামের (২৭) খোঁজ করেন। পরে তাঁকে না পেয়ে তাঁর মা রাফিয়া বেগম (৬৫) ও বোন ময়না আক্তারকে (২৯) চাপ দিতে থাকেন রাসেলকে হাজির করার জন্য। তাঁরা রাসেল বাড়ি নেই বলে জানান। কোথায় গেছেন বলতেও পারছেন না বলে তাঁদের জানান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন রাসেলের ঘর তল্লাশি করে কয়েক বোতল মদ ও ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা থেকে কয়েক শ লোক ওই বাড়িতে জড়ো হন।

একপর্যায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন রাসেলের ঘর তল্লাশি করে কয়েক বোতল মদ ও ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা থেকে কয়েক শ লোক ওই বাড়িতে জড়ো হন। তাঁরা অধিদপ্তরের লোকজনকে ‘ভুয়া ডিবি পুলিশ’ মনে করে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে কৌশলে ছাড়া পেয়ে তিনজন পালিয়ে যান। অন্য তিনজনকে এলাকার কয়েকজন উদ্ধার করে জাফরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের ডিআইজি মো. শাহ আলমের কাছে নিয়ে যান। ডিআইজি মো. শাহ আলম তাঁর ছোট ভাই জহিরুল হকের মৃত্যুর কারণে গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পরে ডিআইজি দেবীদ্বার থানা-পুলিশকে ফোন করেন। খবর পেয়ে দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি মো. আমিরুল্লাহ ও দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এরপর তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাসেলের বোন ময়না আক্তার বলেন, ‘তাঁরা (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোক) কখনো ডিবির লোক, কখনো সিআইডির লোক, আবার কখনো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোক বলে পরিচয় দেন। আমার ভাই মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়। তাঁরা ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা ছয় হাজার টাকা দিই। টাকা ও মাদক নিয়ে চলে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। এরপর মারামারি হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে রাসেল ইসলাম বলেন, ‘আমি মাদক ব্যবসায়ী না। এরপরেও ঝামেলা এড়াতে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়।’ ব্যবসায়ী না হলে টাকা দেবেন কেন, এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিরুল্লাহ বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝিতে ঝামেলা হয়। রাসেলের পরিবারের লোকজন দাবি করছেন, ঘরে মাদক ছিল না এবং তাঁদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে আসেন অধিদপ্তরের লোকজন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কুমিল্লার বর্তমান উপপরিচালক মো. জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে বুধবার রাতে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। এ কারণে অধিদপ্তরের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অধিদপ্তরের বিদায়ী উপপরিচালক মানজারুল ইসলাম বলেন, ‘দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী অভিযান করতে গিয়ে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন